ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

লোডশেডিং যন্ত্রণা

লোডশেডিং যন্ত্রণা

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪ | ০০:১০

শীতকালের বিদায়ের অব্যবহিত পর মাঝারি তাপপ্রবাহের মধ্যেই অনেক এলাকায় ৬-৭ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ। উষ্ণতায় মানুষ যখন বিদ্যুতের কল্যাণে কিঞ্চিৎ স্বস্তির নিঃশ্বাস লইতে চাহে, তখনই এই লোডশেডিং। বিশেষ করিয়া পবিত্র রমজানে ইফতার, তারাবি, সেহরি তথা ইবাদতের সময়ে বিদ্যুৎ যে প্রশান্তি আনিয়া দেয়, লোডশেডিং ততোধিক বিড়ম্বনার কারণ হইয়া থাকে। বৃহস্পতিবার সমকালের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ সহস্র মেগাওয়াট হইলেও উৎপাদন হইতেছে সর্বোচ্চ ১৪ সহস্র মেগাওয়াট। তবে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলির হিসাব অনুসারে যে ২৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করিতে বাধ্য হইতেছে, যাহার প্রভাব গ্রামীণ এলাকাতেই পড়িতেছে অধিক। গ্রীষ্মকাল আগমনের পূর্বেই যদি এই প্রকার সংকটের উদ্ভব হয়, পূর্ণ গ্রীষ্মে মানুষ কতটা ভোগান্তির শিকার হইবে, তাহা সহজেই অনুমেয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের ২৬ সহস্র মেগাওয়াটের সক্ষমতা থাকিলেও মাত্র অর্ধেক কেন আমরা ব্যবহার করিতেছি? বস্তুত জ্বালানি সংকটের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হইয়াছে। বিদ্যুতের অবকাঠামো বৃদ্ধির নিশ্চিত প্রয়োজন রহিয়াছে বটে; উহা অপেক্ষা আবশ্যক ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনে জরুরি কয়লা, গ্যাস ও তৈলের নিশ্চয়তা বিধান। অবকাঠামো তৈরি করিতে গিয়া আমরা দেখিয়াছি, অনেক কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন না করিয়াও ক্যাপাসিটি চার্জরূপে সহস্র কোটি টাকা আদায় করিতেছে। উপরন্তু দেশে নূতন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে যতটা না নজর, উহা অপেক্ষা জ্বালানি আমদানিতেই অধিক আগ্রহী!

চাহিদার আলোকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেই আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হইবে। দেশের শতভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছিয়াছে। এই সাফল্যের সহিত সকলের চাহিদামতো বিদ্যুৎপ্রাপ্তির বিষয়ও নিশ্চিত করা চাই। মানুষ যাহাতে চলমান রমজান এবং আগাম ঈদ স্বস্তির সহিত উদযাপন করিতে পারে, তজ্জন্য বিদ্যুতের বিকল্প নাই। বর্তমান চাহিদা পূরণ, তৎসহিত গ্রীষ্মের তাপদাহেও মানুষ যাহাতে বিদ্যুতের সংকটে পতিত না হয়, তজ্জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে এখনই তৎপর হইতে হইবে। কৃষকের সেচ ও শিল্প উৎপাদন যাহাতে বিদ্যুৎ সমস্যায় ব্যাহত না হয়, তজ্জন্য আগাম প্রস্তুতি জরুরি।

আরও পড়ুন

×