ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

শিক্ষায় ‘ভৌগোলিক’ বৈষম্যই স্পষ্ট হইল

শিক্ষায় ‘ভৌগোলিক’ বৈষম্যই স্পষ্ট হইল

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪ | ০০:০৮

পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরেও এইবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ইতিবাচক ফল আমাদের জন্য আশাজাগানিয়া। রবিবার প্রকাশিত ফলে দেখা যাইতেছে, এইবার গত বৎসর অপেক্ষা ফল ভালো হইয়াছে; ৮০ শতাংশের উপরে শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ। জিপিএ ৫ তথা সর্বোচ্চ গ্রেডধারীর সংখ্যা কিঞ্চিৎ হ্রাস পাইলেও উহাকে স্বাভাবিকরূপে আমরা ধরিতে পারি। পূর্বের বৎসরগুলিতে পরিস্থিতির আলোকে পরীক্ষার পাঠ্যসূচি কিংবা নম্বরে যে কর্তন-ছেদন দেখিয়াছি, এইবার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থায় ফলের উন্নতি প্রমাণ করিতেছে, করোনা হইতে আমাদের উত্তরণ ঘটিয়াছে সফলভাবেই। 
এই বৎসর ১১টি বোর্ডে ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হইলেও অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ। এত শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া স্বাভাবিক হইতে পারে না। যে শিক্ষার্থী ধাপে ধাপে উত্তীর্ণ হইয়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হইয়াছে, এক দশক অধ্যয়নের পরও এই পর্যায়ে আসিয়া কেন অকৃতকার্য হইবে? আমরা মনে করি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক তথা সকলের প্রচেষ্টা থাকিলে শতভাগ কৃতকার্য হওয়া অসম্ভব নহে।

কয়েক বৎসর ধরিয়াই এসএসসি কিংবা এইচএসসিতে অংশগ্রহণ ও ফলের দিক হইতে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের অগ্রগামী থাকিবার ইতিবাচক ধারা আমরা দেখিয়া আসিতেছি। কী কারণে ছাত্রদের অংশগ্রহণ হ্রাস পাইতেছে কিংবা ফলে তাহারা পশ্চাদ্‌বর্তী, উহা খতাইয়া দেখিতে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ যথার্থ। তৎসহিত আমরা দেখি, জিপিএ ৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর অধিকাংশই শহরবাসী। অপরদিকে অকৃতকার্যের সংখ্যায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য। গ্রামের শিক্ষার্থীদের শহরের তুলনায় পশ্চাতে থাকিবার কারণ একেবারে অস্পষ্ট নহে, কিন্তু ব্যবধান এই রূপ, বৈষম্যই অধিক দৃশ্যমান। শিক্ষার মান ও ফলে ‘ভৌগোলিক’ এই বৈষম্য হ্রাস করিতে হইবে। 

এইবার কোনো শিক্ষার্থী কৃতকার্য হইতে পারেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও অর্ধশতাধিক। প্রতি বৎসর পাবলিক পরীক্ষার ফলে প্রায় সমানসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অকৃতকার্য থাকে। প্রতিষ্ঠানে যদি শিক্ষক, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকে এবং সেখান হইতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তবে এই করুণ পরিস্থিতি হইবে কেন? যদিও স্বস্তির বিষয়, এইবার শতভাগ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হইয়াছে এইরূপ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়াছে। আমরা মনে করি, শতভাগ অকৃতকার্যতার কারণ যদ্রূপ উদ্ঘাটিতব্য, তদ্রূপ শতভাগ কৃতকার্য প্রতিষ্ঠানকেও পুরস্কৃতকরণের ব্যবস্থা থাকা চাই। 
মাধ্যমিকের পরই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় প্রথম ধাপে প্রবেশ করিবে। আমরা চাই উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ মসৃণ হোক। প্রতি বৎসর ‘ভালো কলেজ’-এর সংকট দেখা যায়। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ফল লাভের পরও অনেক শিক্ষার্থী সেই অর্থে ‘কাঙ্ক্ষিত’ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হইতে পারে না। আমরা মনে করি, এই বেড়াজাল হইতে বাহির হইয়া সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মানসম্মতকরণ বিষয়ে নজর দিতে হইবে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আমরা সমকালের পক্ষ হইতে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। তৎসহিত অকৃতকার্যদের ব্যাপারে অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভূমিকা প্রত্যাশিত।

আরও পড়ুন

×