ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

পণ্যবাজার লইয়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

পণ্যবাজার লইয়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

প্রতীকী ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪ | ০০:১৩

আগামী বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সময়োচিত এবং সাধুবাদযোগ্য। সোমবার গণভবনে ২০২৪-২৫ অর্থবৎসরের বাজেট বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতিমূলক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর এহেন নির্দেশনায় জনমতেরও প্রতিফলন ঘটিয়াছে বলিয়া আমরা বিশ্বাস করি। বস্তুত দুই বৎসরাধিককাল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে এক প্রকার নাভিশ্বাস তুলিয়াছে। বিশেষ বিপাকে রহিয়াছেন নিম্নবিত্ত ও স্থির আয়ের নাগরিকগণ। শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃতই লবণ আনিতে গিয়া পান্তা ফুরাইয়া যাইতেছে। অপর দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অদ্যাবধি গৃহীত প্রায় সকল সরকারি পদক্ষেপ কার্যত ব্যর্থ হইয়াছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর সহিত অপর এক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলির কর্মকর্তাগণ আসন্ন জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামাইয়া আনিবার প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন। কিন্তু রবিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলিতেছে, এপ্রিল শেষে ‘পয়েন্ট টু পয়েন্ট’ ভিত্তিতে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশে উঠিয়াছে। গত ফেব্রুয়ারিতেও উহা ছিল ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। উপরন্তু খাদ্য মূল্যস্ফীতি, যাহা এতদিন ১০ শতাংশের নিম্নে ছিল; এখন তাহা ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। এহেন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর আলোচ্য নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদিগের চৈতন্যোদয় হইবে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস।

অস্বীকার করিবার উপায় নাই, প্রায় সকল নিত্যপণ্যের বাজার বর্তমানে কতিপয় ব্যবসায়ী চক্র বা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। তথায় প্রতিযোগিতা নাই বলিলেই চলে। ফলে পণ্যমূল্য নির্ধারণে বিক্রেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। অথচ প্রতিযোগিতাই যে কোনো আদর্শ মুক্তবাজারের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যাহার ফলে নির্দিষ্ট কোনো বিক্রেতার পক্ষে ক্রেতার উপর নির্দিষ্ট মূল্য চাপাইয়া দেওয়া অসম্ভব। বিগত সংসদে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রীও স্বীকার করিয়াছিলেন– সিন্ডিকেটের অশুভ হস্তই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করিয়া রাখিয়াছে। কিন্তু দুঃখজনক, বর্তমান বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বিষয়টা স্বীকার করিবার পরও অন্তত ভোগ্যপণ্যের বাজার উক্ত সিন্ডিকেটের কবলমুক্তকরণের লক্ষ্যে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। সত্য, টিসিবির মাধ্যমে বর্তমানে এক কোটি পরিবার স্বল্প মূল্যে বিশেষ কিছু খাদ্যপণ্য পাইতেছে। কিন্তু উহা প্রকৃতই সমুদ্রে বিন্দুবৎ। তাই বাজারের উপর প্রভাব ফেলিতেও ব্যর্থ। 

টিসিবির পণ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উপকারভোগী বৃদ্ধির জন্য সোমবার প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়াছেন, উহা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সম্প্রতি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজার হইতে টিসিবির মাধ্যমে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি করিয়া উন্মুক্ত পরিসরে বিক্রয়ের যে পরিকল্পনার কথা বলিয়াছেন, উহার যথাযথ বাস্তবায়ন নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখিতে পারে। ইহার সহিত যদি মজুতদারির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়, তাহা হইলে নিত্যপণ্যের বাজারের উত্তাপ বিলক্ষণ হ্রাস পাইবে।
আমরা জানি, সম্প্রতি সম্পন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিসমূহের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাইয়াছিল। একাদিক্রমে চতুর্থবারের ন্যায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাইবার পর প্রথম বাজেটে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিপালনই প্রত্যাশিত।

আরও পড়ুন

×