যৌন হয়রানি, প্রক্টরের ওপর হামলা

বিদেশিসহ হাবিপ্রবির ৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ

প্রকাশ: ৩০ মে ২০১৯      

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রমের অভিযোগে তিন বিদেশিসহ নয় শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। জুনে রিজেন্ট বোর্ডে এ সুপারিশ উত্থাপনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় এক্সটেনশন হল ও শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তার ওপর হামলা করা হয়। এদিকে গত ২৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ে রোভার স্কাউটের একটি অনুষ্ঠানে আসা বাইরের এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। পরে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়। 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. খালেদ হোসেন জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৈঠক করে। বৈঠকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানো এবং বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়। তবে ওই শিক্ষার্থীদের নাম জানাননি তিনি।

তিনি জানান, রিজেন্ট বোর্ডে বিষয়টি উত্থাপনের আগে শিক্ষার্থীদের নাম প্রকাশে বিধিনিষেধ রয়েছে। বৈঠকে উপাচার্য ড. মু. আবুল কাসেম, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক, প্রক্টর ড. খালেদ হোসেন, ছাত্র পরামর্শক, উপদেষ্টা মোহাম্মদ রাজীব হাসানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও হল সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

রেজিস্ট্রার ফজলুল হক জানান, ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ছাত্রকে পুরোপুরি বহিষ্কার, যৌন হয়রানি এবং সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার করে বহিস্কার। এ ছাড়া মাদক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন অভিযোগে দুই বিদেশি শিক্ষার্থীকে চার সেমিস্টার করে এবং এক বিদেশি শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। 

বিদেশি এই তিন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হওয়ার পর ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ও বাংলাদেশে থাকতে পারবে না বলে সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী রিজেন্ট বোর্ডের সভায় এ সুপারিশগুলো উত্থাপন করা হবে। সেখান থেকে কার্যকরের বিষয়টি বিবেচনা হবে।