মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহ করবে স্কুল শিক্ষার্থীরা

২০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে পরীক্ষায়

প্রকাশ: ০১ জুন ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সাব্বির নেওয়াজ

পড়াশোনার অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য তথ্য সরেজমিন সংগ্রহ করবে সারাদেশের স্কুল শিক্ষার্থীরা। তারা স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনা, তথ্য, যুদ্ধের বিবরণ, শহীদদের তালিকা, বধ্যভূমির তালিকা ইত্যাদি তৈরি করবে। নেবে মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য। এরপর তৈরি করবে ভিডিও ডকুমেন্টারি। শিক্ষকরা এটির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়ন (স্কুল বেজড অ্যাসেসমেন্ট-এসবিএ) করবেন। সেজন্য তাদের হাতে থাকবে পূর্ণ নম্বর ২০। এটি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ফলে যোগ হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক সমকালকে বলেন, গতানুগতিক শিক্ষা দিয়ে আর সামনে এগোনো যাবে না। বই পড়া, পরীক্ষার খাতায় মুখস্থ করা উত্তর লিখে নম্বর পাওয়ার চিরায়ত পদ্ধতি বিশ্বায়নের এই যুগে অচল। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থী নিজে কিছু করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তার মাধ্যমে কিছু শিখতে পারাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। এসডিজি-৪ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এখন সবার প্রত্যাশা টেকসই শিক্ষা। এর অংশ হিসেবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য তথ্য সংগ্রহ করবে। এজন্য তাদের বাংলা বইয়ের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চ্যাপ্টার থেকে ২০ নম্বর বরাদ্দ দেওয়া হবে।

মহাপরিচালক জানান, তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলবে। বধ্যভূমি এবং যুদ্ধের স্থান সরেজমিন দেখবে। সার্বিক তথ্যের সন্নিবেশ ঘটিয়ে তারা ৫ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করবে। এ ডকুমেন্টারি দেখে শিক্ষকরা তাদের মূল্যায়ন করে নম্বর দেবেন। আগামী ১৬ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীরা উপজেলা সদরে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে এসব ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করবে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এসব ডকুমেন্টারির তথ্য যাচাই-বাছাই করবে তারা। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা, শিক্ষক, উপজেলার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত বাছাই কমিটি সেরা ডকুমেন্টারিগুলো বাছাই করে জেলা পর্যায়ে পাঠাবেন। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একই ধরনের কমিটি সেগুলো বিচার করে বিভাগীয় সদরে পাঠাবেন। জাতীয় পর্যায়ে সেগুলোর বিচার শেষে শ্রেষ্ঠ তিনটি ডকুমেন্টারিকে পুরস্কৃত করা হবে।

মাউশির মহাপরিচালক জানান, পুরো এই কার্যক্রমে সহায়তা দেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। তাদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এরই মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের তৈরি করা ও পুরস্কার পাওয়া শ্রেষ্ঠ ডকুমেন্টারিগুলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সংরক্ষণ করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খান সমকালকে বলেন, নতুন এ উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে, নিজেরা সত্যকে খুঁজে বের করতে পারবে এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি সংস্পর্শে আসতে পারতে। তারা নিজের দেশকে জানতে ও চিনতে পারবে, ফলে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষকরাও। রাজধানীর মিরপুর সিদ্ধান্ত হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম রনি সমকালকে বলেন, এ উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত করা যাবে। তারা হাতেকলমে জীবন-ঘনিষ্ঠ শিক্ষা অর্জনের আনন্দ পাবে।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ এমএ আউয়াল সিদ্দিকী সমকালকে বলেন, এর ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস চির জাগরূক থাকবে। এতে শিক্ষার্থীরা আত্মপরিচয়ের গৌরব অনুভব করবে।