পরীক্ষার প্রশ্নে সেফুদা, শিক্ষক সাসপেন্ড

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্ন

বিতর্কিত প্রবাসী সেফাতুল্লাহ সেফুদাকে উদ্দীপক ধরে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করায় রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের (স্কুল শাখা) ধর্মশিক্ষক জাহিনুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার কলেজের উপাধ্যক্ষকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে বুধবার ওই শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, 'এই শিক্ষক যে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন তা শিক্ষকসুলভ নয়। এমনকি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিসহ বিতর্কিত বিষয় প্রশ্নপত্রে রাখা যাবে না বলে শিক্ষা বোর্ডের একটি পরিপত্র আছে। ওই শিক্ষক সেটি লঙ্ঘন করেছেন।'

তিনি আরও বলেন, যেহেতু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কারও বিরুদ্ধে তদন্ত চললে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সে হিসেবেই ধর্মশিক্ষক জাহিনুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামী ১৮ জুলাই কমিটি প্রতিবেদন দিলে স্কুলটির গভর্নিং বডি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ৪ জুলাই ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্নে সেফাতুল্লাহকে উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করে বলা হয়, 'অদ্ভুত ধরনের এক মানুষ সেফাতুল্লাহ সেফুদা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সে বিভিন্ন রকম কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। তরুণদের উদ্দেশে সে বলে, মদ খাবি মানুষ হবি, দেখ আমি আরও এক গ্লাস খাইলাম। তার কথায় প্রতিবাদ করে একজন বিজ্ঞ আলেম বললেন, তার মধ্যে যদি ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়ের প্রভাব পরিলক্ষিত হতো, তাহলে সে হয়ে উঠত একজন আত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি।' এই উদ্দীপকের ভিত্তিতে পরীক্ষায় চারটি প্রশ্ন করা হয়।

প্রশ্ন করা হয়েছে, 'আকাইদ কী?', 'ইসলামের নাম ইসলাম রাখা হয়েছে কেন?', 'বিজ্ঞ আলেমের বক্তব্যে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে, তা আমাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা ব্যাখ্যা করো'। 'ঘ' নম্বর প্রশ্নে বলা হয়েছে, তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া সেফুদার বক্তব্য কিসের শামিল? এর ফলাফল বিশ্নেষণ কর। এই প্রশ্নপত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই শিক্ষককে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।