ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

ক্যাম্পাসে অনার্স চালু, বিরোধিতায় ইউজিসি

ক্যাম্পাসে অনার্স চালু, বিরোধিতায় ইউজিসি

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অন-ক্যাম্পাস অনার্স চালু নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ নিয়ে গত দু’দিন চিঠি চালাচালি চলছে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। উচ্চশিক্ষার দেখভালকারী প্রতিষ্ঠান ইউজিসি বলছে, গাজীপুরে মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির গৃহীত সিদ্ধান্ত আইনসংগত ও যথার্থ।

জানা গেছে, গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে এ বছরই ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো অন-ক্যাম্পাস অনার্স কোর্স চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। চার বিষয়ে অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই থেকে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ শুরু হয়ে ভর্তি কার্যক্রম চলছে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগামী সোমবার থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা।

চারটি বিষয়ে অনার্স কোর্স হচ্ছে এলএলবি, বিবিএ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে, গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে এ কোর্সগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, একটি এফিলিয়েটিং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেই অন-ক্যাম্পাস এমফিল, পিএইচডি এবং বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি চলছে। এবারই প্রথম স্নাতক সম্মান বিষয়ে অন-ক্যাম্পাস শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ইউজিসি বিস্মিত। নিয়ন্ত্রণকারী এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে অন-ক্যাম্পাস অনার্সসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়।

সব কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তি

ইউজিসির এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাসে স্নাতক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ সব কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। একই সঙ্গে অন-ক্যাম্পাস স্নাতক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়েছে– সে বিষয়ে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। গত সোমবার কমিশন কর্তৃপক্ষের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউজিসি তাদের চিঠিতে দাবি করেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ইউজিসির চিঠি পাওয়ার পরদিনই বুধবার এর জবাব দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় আইনের যেসব ধারা বর্ণিত হয়েছে, সেটিকে ‘আংশিক ও খণ্ডিত’ বলে মনে করেন তারা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় এবং যেসব কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়, তা সুনির্দিষ্ট আইনের মধ্য থেকেই গ্রহণ করা হয়।

ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আলমগীর বলেন, আমরা তাদের আইনকানুন দেখে ও বুঝেশুনেই চিঠি দিয়েছি। তারা কী জবাব দিয়েছে, তা এখনও দেখিনি। কমিশনের সবাই বসে ও বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।

আরও পড়ুন

×