কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ভার্চুয়াল আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

ভার্চুয়াল আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি শেষ হলে পরবর্তী অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলা করতে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বে প্রায় একশ’ কোটি মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এ সময় বিশ্বে কী ধরনের দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে সেটা ভাবতে হবে।’

সোমবার রাতে ইয়াং বাংলা আয়োজিত লেটস টক ‘কোভিড-১৯ রিকভারি টিভিইটি (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং) ফর ইয়ুথ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলব, গ্লোবাল এবং একই সঙ্গে লোকাল একটা দক্ষতার ম্যাপিং করতে হবে এবং সেই ম্যাপিং এর মধ্য দিয়ে আমাদের ম্যাচ করতে হবে, ডিমান্ডের সঙ্গে আমাদের ম্যাচ করতে হবে।’

‘কোন মার্কেটে কী ধরনের দক্ষ লোকের প্রয়োজন হবে, সেজন্য তাদের কী ধরনের ট্রেনিং দিয়ে আমি পাঠতে পারব এবং যারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করেছেন, হয়ত আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই, সে কারণে হয়ত কম রোজগার করছেন। যদি আমরা অতীতের কাজের দক্ষতা ও শিক্ষার বিষয়টি সার্টিফাই করি, তাহলে তারা অনেক ভালো কাজ করার সুযোগ পেয়ে যাবেন।’

পেশাগত ক্ষেত্রে একজন মানুষের যত রকম দক্ষতার প্রয়োজন হয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেভাবে কর্মীদের তৈরি করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে দীপু মনি বলেন, ‘এই প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে কী কী কোর্সের ব্যবস্থা আমরা করব, সেটা আইডেন্টিফাই করতে হবে। পড়ানোর জন্য আমাদের শিক্ষকদেরকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।’

সমাজে কারিগরি শিক্ষার একটি ‘গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে’ মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটাকে যদি আমরা মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসি বা নিয়ে আসতে চাই, তাহলে কিন্তু মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন আনতে হবে এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’

ভার্চুয়াল আলোচনায় যোগ দিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘একটি দেশের বেশিরভাগ জনগণ যেখানে বৃত্তিমূলক এবং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে সেখানে আমাদের এখানে ঠিক উল্টো চিত্র।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তরের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন, সেখানে প্রথম পদক্ষেপই ছিল বৃত্তিমূলক এবং কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু পরবর্তীতে যখন অগণতান্ত্রিক সরকার আসে, তখন সেই ফোকাসটা ছিল না, সেখানে বিশ্লেষণের কোনো বহিঃপ্রকাশ ছিল না। তখন আমাদের অর্থনীতিতে অদক্ষ কর্মী তৈরি হয়েছে। সেখানে দক্ষ কর্মী তৈরি করার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে সস্তা জনপ্রিয়তার শিক্ষানীতির কারণে।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশে আবার কারিগরি শিক্ষার ধারা শুরু করলেন, তখন তাকে ‘শূন্য থেকে শুরু’ করতে হয়েছে।তিনি শূন্য থেকে ১৭ শতাংশে আনলেন। সেখানে আমি বলব আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ছিল।

কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার কোনো সংঘর্ষ নেই মন্তব্য করে নওফেল বলেন, ‘কেউ সামাজিক বিজ্ঞানে ডিগ্রি নিলে ইলেক্ট্রিক্যাল ট্রেনিং নেওয়া যাবে না- এমন নয়। এখন বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের সন্তানেরা এগিয়ে আসছে, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে কারিগরি শিক্ষা তুলে ধরতে হবে।’