আমি একজন সংগীত বিভাগের ছাত্রী। সেই সুবাদে ওঠা-বসা সংস্কৃতিমনা মানুষের সঙ্গেই বেশি। আর সেজন্য এদেরই বেশিরভাগ মানুষের মুখ থেকে যে কথাটা শুনতে হয় তা হলো- সংগীত কিংবা কলা বিভাগে পড়ে চাকরির কোনো ক্ষেত্রই নেই। আমি তো প্রায়ই শুনি, যারা সংগীতে কিংবা চারুকলায় পড় তারা কি সঠিক পরিশ্রম করছ? তারা কয়জন সারাদিন বইয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাক? তোমরা যখন নিজেরা সংগীতে পড়ে কিংবা চারুকলায় পড়ে বল- এসবে অনার্স করে কোনো লাভই হলো না, তখন তো অন্যরা এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেই।
ধরে নিলাম কোনো ক্ষেত্র নেই, শুধু সংগীত কেন কলা বিভাগের কোনোটাতেই নেই। তাহলে যারা নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে নিজের বিষয় নিয়ে কেন কাজ করে না? কেন তারা নিজ সাবজেক্ট নিয়ে গবেষণা করে দেশের জন্য নতুন কিছু সৃষ্টি করে না? কেন বিজ্ঞানের বিষয় থেকে বেরিয়ে তারা ব্যাংকেই প্রথমে আবেদন করে? কেন কিছু না হলে পরে নিজের ডিপার্টমেন্টেই শিক্ষক হিসেবে ঢুকে যেতে চায়? কেন এত এত ডাক্তার থাকার পরও বাইরের দেশে চিকিৎসার জন্য চলে যেতে হয়?
সংগীতে চাকরির ক্ষেত্র নেই! আমরা চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে পারি না। আমরা যথেষ্ট সময় দেই না। আমাদের প্রথম থেকে লক্ষ্য থাকে আমাদের একটা সরকারি চাকরি লাগবে। আমরা কোনোমতে গ্র্যাজুয়েট হতে পারলেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। এটা তো শুধু সংগীতে না, প্রতিটি সাবজেক্টের ক্ষেত্রেই। এই বিষয়টি কি এখনও কেউ বুঝতে পারছে না? অনার্সে উঠে ট্যুর দিয়েই তো বছর পার করে দাও, পরে থাকো 'লাইফ এনজয়' শব্দটাতে। আর বয়স পেরোলে সাবজেক্টের দোষ! যদি জীবন উপভোগেরই হয়, তবে অনার্স শেষে বিভাগের দুর্নাম না-ই রটালাম। আর দুটি সমানতালে হলে ক্ষতি তো নেই। বরং আমরা শিক্ষাব্যবস্থার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে বলতে পারি, কেন সাবজেক্টভিত্তিক কর্মক্ষেত্রের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে না! কে কোন বিষয়ে মাস্টার্স করবে তা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। অবশ্যই যে যে বিষয়ে পারদর্শী, সে বিষয় নিয়েই এগিয়ে যাওয়া উচিত। অযথা সাবজেক্ট নিয়ে কর্মক্ষেত্রের প্রসঙ্গ নাই তুললাম।
শিক্ষার্থী, সংগীত বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিষয় : বিষয়ভিত্তিক চাকরি ও পড়াশোনা

মন্তব্য করুন