লকডাউনের ফলে দেশে ৯৯ শতাংশের জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বিভিন্ন মেয়াদি প্রভাবে অনেক লোক ইতোমধ্যে মারা গেছেন এবং আরও মারা যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। 

রোববার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে 'জনস্বাস্থ্যে লকডাউনের প্রভাব' শীর্ষক সেমিনারে লিখিত বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ৯ জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পক্ষে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন সেমিনারের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ মঞ্জুরুল করিম।

বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, গত বছর করোনাভাইরাস আসার পর আমাদের দেশে নন-কভিড রোগীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি ডেকে এনেছে। ২০২০ সালে দেশে মোট মৃত্যু ছিল আট লক্ষাধিক, কিন্তু করোনায় মৃত্যু হয়েছে মাত্র আট হাজার লোকের, যা মোট মৃত্যুর মাত্র ১ শতাংশ। এই ১ শতাংশ মৃত্যুকে হ্রাস করতে গিয়ে অন্যান্য ৯৯ শতাংশ রোগীর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

তারা বলেন, অতি সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সায়েন্স জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাস বায়ুবাহী। এর আগেও পৃথিবীর ৩২টি দেশের ২৩৯ জন বিজ্ঞানী প্রমাণ পেয়েছেন, করোনা বাতাসে ছড়ায়। করোনা যদি বাতাসে ছড়ায় তবে এটি দমনে লকডাউনের কোনো ভূমিকা নেই। কারণ লকডাউন দিয়ে মানুষকে আটকে রাখা যায়, কিন্তু বাতাস আটকে রাখা যায় না।

বিবৃতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ফ্লু ভাইরাসগুলোতে অন্তত ১০০ কোটি লোক আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ২০ কোটি লোকের ইনফেকশন ভাইরাল নিউমোনিয়া পর্যায়ে চলে যায়। ভাইরাল ফ্লুর বড় একটি অংশ দায়ী করোনাভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইন। এ সমস্যা নতুন নয়। তাই তাড়াহুড়া করে লকডাউন দিয়ে এর সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো লাভ হবে না। বরং এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকে স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টি দিতে হবে। অপরীক্ষিত লকডাউনের দিকে না ঝুঁকে বরং ভাইরাল নিউমোনিয়ার সঠিক চিকিৎসা সহজলভ্য করা আমাদের জন্য জরুরি।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- ব্যুরো ভ্যারিটাস প্রাইভেট লিমিটেডের এমপ্ল্যানড স্পেশালিস্ট এমবিএম রুহুল হাসান, আইসিইউ স্পেশালিস্ট ডা. মুহম্মদ নুরুল আফসার, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহম্মদ আসাদুজ্জামান, ডা. মুহম্মদ মহসিন রেজা চৌধুরী, ডা. মুহম্মদ মুজাহিদুর হাসান, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. এসএম ইবনে শাইখ, ডা. মুহম্মদ জর্জিসুর রহমান ও ফার্মাসিস্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন।

মন্তব্য করুন