সম্প্রতি দেশের একটি ইংরেজি দৈনিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্পমূল্যের খাবার নিয়ে উপাচার্যের বক্তব্য এবং এখানকার করোনা টেস্টের জন্য স্থাপিত পিসিআর ল্যাব নিয়ে 'খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর' তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভ্রান্তিকর ও খণ্ডিত তথ্য ব্যবহার করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো বিশেষ মহল যাতে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে না পারে সেজন্য কর্তৃপক্ষ সংশ্নিষ্ট সকলের সদয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে টিএসসিতে নবীন শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটারিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেন্যু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবাকার্যক্রমের কথাগুলোও বলেন। এক সাংবাদিক উপাচার্যের বক্তব্যের মূল অংশ কাটছাঁট করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাক্য ও শব্দ অবলোপন করে ক্যাফেটারিয়ার বিভিন্ন খাবার আইটেমের মূল্যমান-সংক্রান্ত বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ১৫-২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও করেন। পরে তা ভাইরাল হয়। সেই সাংবাদিক অবশ্য পরে সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে উপাচার্য বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন।

এদিকে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাড়া দেয়নি। এখানে কভিড টেস্ট শুরু হয় বেশ বিলম্বে; কিছুদিন পর আবার ল্যাব বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডজনেরও অধিক আরটি-পিসিআর মেশিন থাকা সত্ত্বেও সেসব দিয়ে জাতির মহাদুর্যোগে সেবাকার্যক্রম পরিচালনা না করে বসে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃত ঘটনা হলো কোনো বিলম্ব ছাড়াই গত বছরের মার্চে সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানী, জিন প্রকৌশলী ও প্রাণরসায়নবিদদের নিয়ে প্রথম 'কভিড-১৯ (প্যানডেমিক) রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি' গঠন করে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে কভিড মহামারি প্রতিরোধে কতিপয় সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রস্তাবনা দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কমিটির মাধ্যমে তিনটি আরটি-পিসিআর মেশিন এনে তৈরি করা হয় কভিড টেস্টিং ল্যাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর মে মাসের শুরুতে এর উদ্বোধন করা হয়। অনিবার্যকারণে কয়েক দিন পরীক্ষা স্থগিত থাকলেও এই সেবা এখনও চলছে।