জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ওপর আগামী ৯-১২ ডিসেম্বর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামান, পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূইয়া, ড. শামসুল আরেফিন, মো. কামাল হোসেন, ড. মো. ফখরুল ইসলাম, মো. ওমর ফারুখ, মোহাম্মদ জামিনুর রহমান, মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ও মো. শাহ আলম যুক্ত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন দেশে প্রযুক্তি শিক্ষার বিস্তার এবং ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে একটি ভালো অবস্থানে যেতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ইউজিসি’র। সম্মেলনে নোবেল বিজয়ী, প্রথিতযশা বিজ্ঞানী, গবেষক, শিল্প উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ সম্মেলনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স এন্ড অটোমেশন, ইন্টারনেট অফ থিংস এন্ড স্মার্ট এগ্রিকালচার, ডাটা এনালিটিক্স এন্ড ক্লাউড কম্পিউটিং, কমিউনিকেশনস এন্ড নেটওয়ার্কস, সিগন্যাল এন্ড ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং বিষয়ে পেপার উপস্থাপন করা হবে। এ ছয় বিষয়ের ওপর লিখিত বেস্ট পেপারের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হবে । এছাড়া, সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য আইডিয়া কন্টেস্টেরও সুযোগ থাকবে।

ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন এন্ড বিয়ন্ড ২০২১ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি ও উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে, দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে সম্মেলনের সমাপন অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে ইউজিসি অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বদ্যিালয়সমূহ পরবর্তীতে এ ধরণের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে আগ্রহী হবে বলে তিনি মনে করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি ছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। এজন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উৎকর্ষ সাধন করা প্রয়োজন । দেশের তথ্য ও প্রযুক্তি খাত এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এখন থেকেই উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে স্টার্টআপ, সফটওয়্যার, সাইবার সিকিউরিটি, রোবটিক্সসহ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন অর্গানাইজিং কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ ও একাডেমিয়াদের মধ্যে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে গবেষণার নতুন দিক উন্মোচন হবে। দেশের গুণগত উচ্চশিক্ষার প্রসারেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই সম্মেলন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আধুনিক কৌশল প্রযোগ করে স্থানীয় সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সহায়ক হবে।

সভায় বুয়েটের উপাচার্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে টেকনিক্যাল বিষয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বিষয় : ইউজিসি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন

মন্তব্য করুন