অনুমোদন ছাড়া প্রোগ্রাম ও কোর্স পরিচালনা এবং অনুমোদিত আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে লাল তারকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। 

লাল তারকা চিহ্নিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হতেও পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি। অনুমোদিত প্রোগ্রাম ও এর আসন সংখ্যা নিশ্চিত হয়ে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশে উচ্চশিক্ষার দেখভালের দায়িত্বে থাকা এ প্রতিষ্ঠান।

ইউজিসির অনুমোদনহীন ভবন ও ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে আচার্যের নিয়োগ করা উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ না থাকা, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মালিকানা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বসহ অন্যান্য অনিয়মের কারণেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লাল তারকা দেওয়া হবে। সম্প্রতি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দের সভাপতিত্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, অনুমোদিত আসনের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এটি করে থাকলে তা আইনগতভাবে বৈধ হবে না। অতিরিক্ত ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সনদ বিক্রির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করে থাকে।

এ ছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে ইউজিসি অনুমোদিত আসন সংখ্যার বিপরীতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইউজিসির এক সদস্যকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ ও বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যানকে  সোমবার কমিশনে তলব করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে ইউজিসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

সম্প্রতি একটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকে 'ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ :অনুমোদিত আসন ৪০, ভর্তি হয়েছে ৯০০' শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে সেমিস্টারপ্রতি ভর্তির অনুমোদিত আসন সংখ্যা ৪০। যদিও গত শিক্ষাবর্ষে শুধু এক সেমিস্টারেই বিভাগটিতে ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নয়; অধিকাংশ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে অনুমোদিত আসনের কয়েক গুণ।

এ বিষয়ে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি বিষয়ে ইউজিসি গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো প্রোগ্রামে এক সেমিস্টারে ৯০০ শিক্ষার্থী ভর্তি ও যথাযথভাবে শিক্ষাদান করার সক্ষমতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

ইউজিসি সোমবার জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে অনুমোদিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করলে তা সম্পূর্ণরূপে বেআইনি ও অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। ইউজিসির ওয়েবসাইটে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে লাল তারকা দিয়ে চিহ্নিত করা হবে।