জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক গবেষণায় ১৫ প্রজাতির দেশি মাছে প্লাস্টিক কণার (মাইক্রোপ্লাস্টিক) সন্ধান পাওয়া গেছে। কৃত্রিম উপায়ে মিঠাপানির জলাধারে চাষ করা এই মাছগুলো হলো- কালবাউশ, বেলে, ট্যাংরা, কই, বাটা, রুই, তেলাপিয়া, কমন কার্প, পাবদা, পুঁটি, রয়না, শিলং, বাইন, টাটকিনি ও বাছা। এর মধ্যে ট্যাংরা, টাটকিনি, রয়না বা মেনি মাছে প্লাস্টিকের পরিমাণ বেশি।

সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্টে এ-সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত থিসিসের জন্য এ গবেষণা চালান। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক শফি মুহাম্মদ তারেক ও সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা পারভিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত বলেন, 'আমি স্নাতকোত্তর অভিসন্দর্ভের (থিসিস) জন্য ১৮ প্রজাতির দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধান করি। এদের মধ্যে ১৫ প্রজাতির মাছের পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষণার জন্য সাভার ও আশুলিয়া বাজার থেকে মাছগুলো সংগ্রহ করা হয়। কৃত্রিম উপায়ে মিঠাপানির জলাধারে চাষ করা মাছগুলোর ৭৩ দশমিক ৩০ শতাংশ প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে।'

গবেষণায় জানা যায়, কালবাউশ, বেলে, ট্যাংরা, কই, বাটা, রুই, তেলাপিয়া, কমন কার্প, পাবদা, পুঁটি, রয়না, শিলং, বাইন, টাটকিনি ও বাছা মাছে হাই ডেনসিটি পলিথিলিন, পলিপ্রপিলিন পলিথিলিন কপোলিমার ও ইথিলিন ভিনাইল এসিটেটের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। এসব প্লাস্টিক কণা সরাসরি খাদ্যের সঙ্গে মানুষের দেহে প্রবেশ করে না। তবে এগুলো থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত রাসায়নিক মাছের দেহ বা পেশিতে জমা হয়। পরে এসব মাছ খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষের দেহে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, 'পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের পাশাপাশি মানুষের খাদ্য তালিকাও এখন প্লাস্টিক দূষণ দখলে। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক। মাইক্রো প্লাস্টিক হচ্ছে প্লাস্টিকের ছোট কণা, যার দৈর্ঘ্য পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে কম। বর্জ্য প্লাস্টিক ফটো-কেমিক্যাল এবং বায়োলজিক্যালি ভেঙে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়। এর ক্ষতিকর দিক মারাত্মক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাছের ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। এর আগে আমাদের দেশে স্বাদু পানির মাছ নিয়ে কোনো পরীক্ষামূলক গবেষণায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।'

সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা পারভিন বলেন, 'ফলি, শিং ও গুলশা- এই তিন প্রজাতির মাছে বিষাক্ত কণা পাওয়া যায়নি। পানির বিভিন্ন স্তরে মাছ বাস করে। এর মধ্যে যেসব মাছ পানির সবচেয়ে নিচের স্তরে বাস করে, তাদের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি। বাংলাদেশের জলাধারগুলো অতিমাত্রায় পানি দূষণের শিকার। যেখানে প্লাস্টিক বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ফেলা হয়। সেখান থেকেই মাছের মতো জলজপ্রাণী দূষিত খাদ্য গ্রহণ করে।'