র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) চার শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায় প্রকাশের পর তারা এক সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে পারবেন না। এছাড়া র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত বাকি ৩১ শিক্ষার্থীকে বুয়েটের হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলের বাইরে নিজ দায়িত্বে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এ রায় দেন। চার শিক্ষার্থী হলেন- মির্জা মোহাম্মদ গালিব, সব্যসাচী দাস দিব্য, সৌমিত্র লাহিড়ী ও মোবাম্বির। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে বুয়েটের বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার ও আবাসিক হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই শাস্তি দেওয়া হয়। 

দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা শাস্তির কপি হাতে পাওয়ার পর এর বিরুদ্ধে একাডেমিক কাউন্সিলে আপিল করেন। কিন্তু তা খারিজ হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালে ৩৫ শিক্ষার্থী হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন। এরপর ওই বছরের ডিসেম্বরে বুয়েটে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের শাস্তি আরোপে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। 

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ। আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে এ সংক্রান্ত রুল ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন হাইকোর্ট।