মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তরুণদের স্বনির্ভর হতে হবে। মেধায়, চিন্তা-চেতনায়, সততা ও নৈতিকতায় কর্মক্ষম মানুষ হতে হবে। শুধু ভালো জিপিএ দিয়ে আদর্শ মানুষ হওয়া যায় না।

সোমবার পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত বাংলাদেশ: তারুণ্যের ভাবনায় মিট দ্য মিনিস্টার’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের নিজের প্রতিভা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটাতে হবে। তাদের যেন চাকরির নেশায় পেয়ে না বসে। ঐকান্তিক ইচ্ছা, নিরলস প্রচেষ্টা, গভীর অধ্যাবসায় এবং সততা ধারণ করতে পারলে তরুণরা কখনও ব্যর্থ হবে না। তরুণদের স্বাবলম্বী করার জন্য সরকার সব ধরনের সহেযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের আগ্রই হচ্ছে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাদের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করতে না পারলে মাতৃভূমি বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ধারণা অস্পষ্ট থেকে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল, আমরা সবাই ভালো মানুষ হব। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকবে না, কোনোভাবে সাম্প্রদায়িকতায় জড়িত হব না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে-মিশে থাকব। দেশে দুর্নীতি থাকবে না, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাকবে না। গ্রামের একজন মানুষ না খেয়ে মারা যাবে, আরেকজন শত কোটি টাকার মালিক হবে, সেটা হবে না। এ দেশটা আমাদের সবার। প্রত্যেকটি মানুষের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার সমান।

তরুণদের সুশাসন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য একই ধরনের শাসনই হলো সুশাসন। সরকারি কর্মকর্তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন, কেউ দুর্নীতি করলে, অন্যায় করলে ছাড় না পাওয়া, সেটাই সুশাসন। সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য যেটা ন্যায্য, যেটা ভালো, সেটা প্রশাসনিকভাবে সবার জায়গা থেকে করাই হচ্ছে সুশাসন।

তরুণদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নিম্ন আদালত পরিপূর্ণভাবে স্বাধীন। আদালতের অনিয়ম দূর করার জন্য সরকার সচেষ্ট রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বিচারের জন্য মানুষের হাহাকার থাকবে না।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির অহমেদের সঞ্চলনায় এ আয়োজনে প্যানেল আলোচক ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান, পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌতম নারায়ণ রায় চৌধুরী ও সাংবাদিক মুনিরুজ্জামান নাসিম আলী।

এর আগে মন্ত্রী পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে ঢেউটিন ও আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের মধ্যে মিল্ক ক্রিম সেপারেট মেশিন বিতরণ করেন। পরে পিরোজপুর জেলা ব্যান্ড বুকের মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী।