করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদে এই কার্যক্রম শুরু হয়। 

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কলাভবনের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষা কক্ষ পরিদর্শন করেন। কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী এসময় তার সঙ্গে ছিলেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সন্তোষ প্রকাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী কোভিড-১৯ এর অন্তত এক ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা শুরুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হল। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোপূর্বে একাডেমিক কাউন্সিল প্রণীত লস রিকভারি প্ল্যান অনুসৃত হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘লস রিকভারি প্ল্যানের’ আওতায় ছয় মাসের সেমিস্টার পরীক্ষাসহ চার মাসে এবং কোর্স পদ্ধতির ক্ষেত্রে ১২ মাসের পরিবর্তে ৮ মাসে সম্পন্ন করা হবে।  তবে কোনোভাবে সিলোবাস সঙ্কুচিত করা যাবে না। সিলেবাস যেটা আছে, সেটা অনুযায়ী আমাদের অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। প্রয়োজনে শনিবারও ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন, ‘শরৎকালীন ও শীতকালীন ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হল, মহামারীতে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া।’

তিনি জানান, এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাবিতে সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি কোনো বিভাগ বা ইনস্টিটিউট চাইলে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনেও নিতে পারবে।

শ্রেণিকক্ষ খোলার আগে অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে গত ৫ অক্টোবর প্রথম ধাপে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় ধাপে স্নাতক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাও হলে উঠেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞান গ্রন্থাগারসহ বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরিগুলো তার আগেই ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়। সেসময় সীমিত আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবাও চালু করা হয়।