চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রস্তাবিত ‘ফতেয়াবাদ নিউ সিটি আবাসন প্রকল্প’ বাতিলের দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ পাহাড়তলী বসতভিটা রক্ষা কমিটি। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। 

একইসঙ্গে প্রকল্পটি বাতিল করতে সিডিএকে ১৫ দিনের সময় বেধে দিয়েছেন তারা। এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাতিল করা না হলে সিডিএর সামনে অবস্থান নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক দুর্গাপদ নাথ। 

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যখানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডটি অবস্থিত। ওয়ার্ডের পশ্চিমে পাহাড়। পাদদেশে কৃষি জমি ও বসতি। এখানে পরিত্যক্ত কোনো জমি নেই। এখানে সিডিএ ফতেয়াবাদ নিউ সিটি নামে একটি আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করে দক্ষিণ পাহাড়তলী, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলীর আংশিক ও ফতেপুর ইউনিয়নের কিছু অংশের অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ কারণে গত ১৫ বছর ধরে এখানে নতুন ভবন নির্মাণে সিডিএ কোনো অনুমোদন দিচ্ছে না; যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।’ 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘এখানে প্রায় দুই লাখ লোকের বসবাস। কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই এখানে ভবন নির্মাণের অনুমোদন বন্ধ রেখেছে সিডিএ। ফলে এলাকার লোকজন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে কেউ জমি বিক্রি করলে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। ফলে পবিত্র হজ, তীর্থযাত্রা, বিয়েসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারছেন না এলাকার লোকজন।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন,এলাকার লোকজন বসতভিটা রক্ষা কমিটি করে শুরু থেকে কৃষি ও বসতভিটায় প্রকল্প না করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। সিডিএ চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করে। সিডিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তারা কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না। সিডিএ এ পর্যন্ত যেসব আবাসিক প্রকল্প করেছে সেখানে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য কোনো আবাসনের ব্যবস্থা নেয়নি। দক্ষিণ পাহাড়তলীর বেশির বাসিন্দা নিম্ন মধ্যবিত্ত। এখানে তাদের জমি অধিগ্রহণ করে সমাজের কিছু উচ্চবিত্তের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।  

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বসতভিটা রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা ও সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী শফিউল আজিম, সংগঠনের সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান, ফজলুল কাদের চৌধুরী, রনজিৎ চক্রবর্তী, যুগ্ম সচিব অঞ্জন কারণ, সদস্য লোকমান হাকিম, গাজী মঈনুদ্দীন, মো. আইয়ুব ও গাজী আক্কাস।