সম্প্রতি দেশে হিন্দুদের পূজামণ্ডপ ও মন্দির-বাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর ঐক্য মোর্চা। নেতারা বলেছেন, সংবাদ সম্মেলন করে দেশের চরম সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর অনুগ্রহপুষ্ট হয়ে বেড়ে ওঠা হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা একদিকে কৌতুককর, অন্যদিকে রহস্যজনক।

শনিবার রাজধানীর পুরান পল্টন লাইনের বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কার্যালয়ে ঐক্য মোর্চার সভায় নেতারা এ কথা বলেন। ঐক্য মোর্চার প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, জেএল ভৌমিক, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, মিলন কান্তি দত্ত, নির্মল রোজারিও, ভিক্টর দে, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, অধ্যাপক হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, জগৎ গুরু গৌরাঙ্গ দাস, চিন্ময় গদাধর দাস, পলাশ কান্তি দে, রূপম রায়, সুব্রত মণ্ডল, শ্যামল কুমার রায়, বাপ্পাদিত্য বসু, রাজ কুমার দাস, প্রশান্ত কুমার রায়, সাগর সাধু ঠাকুর, তাপস বৈরাগী, রতন চন্দ্র পাল, প্রদীপ কুমার আচার্য্য, সচীন্দ্র নাথ বাড়ৈ, গণেশ চন্দ্র সেন, শ্যামল ঘোষ, হীমাংশু সিংহ, চাঁন মোহন রবিদাস, রাজীব কুমার ভদ্র, অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র দাস প্রমুখ।

সভার প্রস্তাবে বলা হয়, প্রতিক্রিয়াশীল মহলের ইন্ধনে দীর্ঘকাল হিন্দুদের আবেগকে পুঁজি করে সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থের অসৎ উদ্দেশ্যের অংশ হিসেবে হিন্দু মহাজোটের একাংশের নামে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদকে 'সরকারি লেজুড়' সংগঠন ও নেতৃত্বকে 'সরকারি দালাল' বলতে গোবিন্দ প্রামাণিকের বিবেকে বাধে না। সেই গোবিন্দ প্রামাণিকের হঠাৎ করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এর আগে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় দেওয়া বিবৃতিকে 'কৌশলগত বক্তব্য' উল্লেখ করা প্রকৃত অর্থে 'ভূতের মুখে রাম নাম' প্রবাদটির কথা মনে করিয়ে দেয়।

সভায় আরও বলা হয়, সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গত ২৮ অক্টোবরের বিবৃতির ব্যাখ্যা জাতি তার কাছ থেকেই আশা করে।