সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের মাধ্যমে অ্যাডহক নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। 

সরেজমিন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসির তদন্ত কমিটি। 

অবকাঠামো নির্মাণ বা পাঠদান শুরু না হলেও নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে শতাধিক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিধি লঙ্ঘন করে এই নিয়োগের নেপথ্যে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলেও তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান।

বুধবার ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও তদন্ত কমিটির সদস্য ড. ফেরদৌস জামান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাডহক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অ্যাডহক নিয়োগ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা দাবি করেছে, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এক সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে নিয়োগের কাগজপত্র ও বেতনের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে বলা হয়েছে। আজ এই সময় শেষ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র নিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে।

কাগজপত্র পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ড. ফেরদৌস জামান।

গত ১৬ নভেম্বর ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি সরেজমিন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্তে আসে। গত ২৪ অক্টোবর সমকালে 'সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় :শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর আগে নিয়োগ বাণিজ্যের উৎসব' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে।

২০১৮ সালে সিলেটে সিভিল সার্জন কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দেশের চতুর্থ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ) নঈমুল হক চৌধুরী।

উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে ইউজিসি ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, ইউজিসি অনুমোদিত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। ইউজিসি থেকে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে ১১৩ পদে জনবল নিয়োগের অনুমোদন রয়েছে। উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৭৪ জনকে নিয়োগ দেয়। এদের মধ্যে ইউজিসি অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র ৬৪ জনকে নেওয়া হয়েছে। অন্যদের অনিয়ম করে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।