চলতি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে দেশে সাতটি হাতিকে হত্যা করা হয়েছে। মাটি কাঁপিয়ে ছুটে চলা এসব হাতির নিথর দেহ মেনে নিতে পারেননি প্রাণীপ্রেমিরা। গত এক মাসে কয়েকটি জেলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হাতি হত্যার বিচার দাবি করা হয়েছে। অবশেষে সেই আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে রাজধানীতেও।

রোববার আগারগাঁওয়ের বন ভবনের ফটকে অবস্থান নেয় ৩৩টি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট’। দিনভর স্লোগান, গান, কবিতা আর ছবি এঁকে হাতিসহ বন্যপ্রাণী হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে নানা পেশার মানুষ। নিখাদ ভালোবাসা থেকে ছুটে এসেছেন তারা। এ সময় সাধারণ মানুষও জানিয়েছেন নীরব সহানুভূতি। রাজধানীর বুকে যেন ফুটে উঠে গ্রামবাংলার দয়ার্দ্র মানুষের চিরন্তন ভালোবাসার চিত্র।

আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, বন অধিদপ্তর প্রাণী হত্যা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। কিছুদিন পরে ছবিতে আঁকা হাতি দেখিয়ে বলতে হবে দেশে একসময় হাতি ছিল। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর কমিশন গঠনের পাশাপাশি বন বিভাগের সক্ষমতা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোসহ আট দফা দাবি জানান তারা।

রোববার সকাল ৯টায় জোটের আহ্বায়ক পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়ক কেফায়েত শাকিলের সঞ্চালনায় শুরু হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কীটত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার ও সাংবাদিক-কবি চপল মাহমুদ প্রমুখ।

দুপুরের পর বাউল গান, গল্প এবং কবিতার ছন্দে জানানো হয় বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আহ্বান। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে স্থপতি রাকিবুল হক এমিলের নেতৃত্বে জীবিত ও মৃত হাতির ছবিও আঁকেন চিত্রশিল্পীরা। বিকেলে বন অধিদদপ্তরের বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) হোসাইন মুহম্মদ নিশাদ ও সহকারী প্রধান বন সংরক্ষক মো. আব্দুস ছালেক প্রধানের কাছে অনাস্থাপত্র দেওয়া হয়।