মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনবান্ধব সরকারপ্রধান। তিনি এমন সরকারপ্রধান যিনি কাউকে পেছনে ফেলে রাখেন না। তিনি দুস্থ-অসহায় মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন। সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে চলেছেন। প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিত্যক্তা, দুস্থ, বিধবা, অসহায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যার মমত্বের সহযোগিতা পৌঁছাচ্ছে না। সর্বত্র সকলকে নিয়ে তিনি সামনে এগোতে চান।

বুধবার পিরোজপুর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগীর জন্য আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ৪৩ জন দরিদ্র রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান, পিরোজপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ইকবাল কবির ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ চণ্ডীচরণ পাল।

এছাড়া পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী, পিরোজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান ফুলু, পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌতম নারায়ণ রায় চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান খান শামীম, পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য রাষ্ট্র নৈতিক দায়িত্বের জায়গা থেকে সকল চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি বিপন্ন, অসহায়, দুস্থ, অনাথসহ সকল শ্রেণির মানুষের অধিকার নিশ্চিত করছেন। আমরা এমন একজন জনবান্ধব প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি যিনি দুঃখী মানুষের কষ্ট বোঝেন। অনুন্নত এলাকার বেদনা তাকে আকৃষ্ট করে। তিনি এমন ব্যতিক্রমধর্মী রাষ্ট্রনায়ক।

জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য আর্থিক অনুদানের বরাদ্দ বাড়ানোসহ পিরোজপুরের সব খাতের পরিসর বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছেন বলে এসময় জানান মন্ত্রী। একসময় উন্নয়নবঞ্চিত পিরোজপুর দেশের অন্যান্য স্থানের মতো উন্নয়নের সমতার জায়গায় চলে আসবে বলেও এসময় আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরে মন্ত্রী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন হতে অস্বচ্ছল ক্রীড়াবিদদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এর আগে মন্ত্রী পিরোজপুর সার্কিট হাউসে প্রাঙ্গণে শীতার্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। পরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্তৃক বাস্তবায়িত পিরোজপুর খেয়াঘাট-হুলারহাট সড়কের ধূপপাশায় ও রানীপুরে ২টি কালভার্ট উদ্বোধন করেন তিনি।