শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবিসহ তিন দফা দাবি আদায় এবং ছাত্রীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের ‘হামলার’ প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোববার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী গোল চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে দেখা যায়। সড়ক অবরোধ করায় ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে ফেরার পথে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবহনের বাসগুলো আটকে গেছে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ছাত্রীদের আন্দোলনে সমর্থনকারী শিক্ষার্থীসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। 

হামলার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান শনিবার সন্ধ্যায় বলেছিলেন, ওখানে কোনো হামলা হয়নি। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল, তারা এখনও আন্দোলন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবির বলেছিলেন, অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার সময় তাদের নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগের কেউ ছিল না। তারা সবাই শিক্ষার্থী।

এর পর শিক্ষার্থীরা গোল চত্বরে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত অবস্থান করে বিক্ষোভ মিছিল এবং গানে গানে প্রতিবাদ জানান। পরে সেখান থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণার শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করেন। এসময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ছাত্রীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে।

ছাত্রী হলে পানি, সিট, ইন্টারনেট, খাবারসহ বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষার্থীরা হলের রিডিং রুমে আলোচনা করেছিল। সমস্যার কথাগুলো প্রভোস্টকে বলার জন্য হলে আসার অনুরোধ জানান। তখন প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা অসুস্থতার কথা জানালে ছাত্রীরা প্রভোস্ট বডির একজন সদস্যকে অল্প সময়ের জন্য হলেও আসার অনুরোধ জানান এবং বিষয়টি জরুরি বলে উল্লেখ করলে প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এর পর শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাত দুইটা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলন করেন। পরে উপাচার্যের আশ্বাসে রুমে ফেরেন শিক্ষার্থীরা। পর দিন উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল আলোচনার বসে। কিন্তু আলোচনা থেকে কোনো সমাধান না আসায় তারা শুক্রবার আন্দোলন চালিয়ে যান এবং আল্টিমেটাম দেন।