শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগসহ নতুন ৩ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ক্যাম্পাসে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করেছেন।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, 'আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি এবং তাকে এই ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে হবে। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বরাবর গণস্বাক্ষরসহ চিঠি দিব। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে এবং কোনো শিক্ষার্থী হল বা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবে না।'

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দু'টি ভবন, একাডেমিক ভবন 'বি', 'সি', 'ডি' এবং 'ই' ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলার পরে উপাচার্যের পদত্যাগ এবং ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন করছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার সময় দায়িত্বে পালনে ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডি এবং ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালকেরও বিনাশর্তে পদত্যাগ দাবি করেন এই শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন। তিনি বলেন, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদারকে প্রধান করে সকল ডিন এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস ও রেজিস্ট্রারকে নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের অপেক্ষমান তালিকা থেকে ভর্তির তারিখ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের 'এ' বিল্ডিংয়ে ভর্তি চলছে। কিশোরগঞ্জ থেকে ভর্তি হতে আসা আনোয়ার নামের এক শিক্ষার্থী সমকালকে বলেন, আন্দোলনে আমাদের ভর্তির এখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এবিষয়ে ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল হোসাইনি বলেন, আমরা সকাল নয়টা থেকে সুন্দরভাবে ভর্তি কার্যক্রম চালাচ্ছি। এই পর্যন্ত আমরা কোনো বাঁধার মুখে পড়িনি।

এদিকে বন্ধ ঘোষণার কারণে সকালের দিকে হলের আবাসিক কিছু শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে যেতে দেখা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শাহপরান হলে গিয়ে কিছু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানান, এখন তারা হল ছাড়বেন না এবং হলে থাকা বেশকিছু শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।

শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনে গতকাল রোববার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় রোববার রাত থেকে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।