শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদ উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলা চালিয়েছেন- এমন অভিযোগ তার অপসারণের দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন।  সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনস্থ কলাভবন ক্যাফেটেরিয়ার আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই দাবি জানান সংগঠনগুলোর নেতারা। এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

ছাত্র ফেডারেশনের একাংশের সভাপতি মিতু সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি) সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট(মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দীপ ভট্টাচার্য, ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জহর লাল রায়, গনতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সাইদুল হক নিশান, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা দীপন চাকমা প্রমুখ।

সমাবেশে নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন পুলিশ আসবে? পুলিশ কার টাকায় চলে? শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন ধামা চাপা দেওয়ার জন্য হল-ক্যাম্পাসে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু যতদিন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে না নেওয়া হবে ততদিন আন্দোলন চলবে।

নেতারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের আবাসিক কোয়ার্টারে থাকতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে স্যালুট জানাই। প্রশাসন, পুলিশ ও ছাত্রলীগ মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসের কারখানায় পরিণত করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে মিতু সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশকে ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর জন্য ডেকে এনেছে। তাদের ওপর হমলার পরও তারা আন্দোলন ছেড়ে যায়নি।  আমি শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই।

তিনি বলেন, এই রাষ্ট্র আজ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে মারার জন্য শাবিপ্রবির উপাচার্য পুলিশ ডেকে এনেছে,  তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আন্দোলন বন্ধ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হল-ক্যাম্পাস এবং ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।  আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।