শাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ১৪০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন করছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন। অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। একটু সুস্থ হয়ে আবার ফিরেছেন আন্দোলনে। তাই ছেলেকে দেখতে চট্টগ্রাম থেকে ক্যাম্পাসে এসেছেন বাবা জয়নাল আবেদিন। 

প্রতিদিনের মতো নিয়মিত কথার পাশাপাশি শারীরিক খোঁজ-খবর আর আন্দোলনের কথাও বলেছে ছেলে-বাবা। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ছেলের খোঁজ নেওয়ার জন্য ফোন দিয়ে যে কথাটা বাবা অবশ্যই জানতে চাইতো 'সন্তান খেয়েছে কি না?' সেই কথাটা সন্তানকে বলতে পারেননি এই বাবা।

শাহরিয়ার আবেদিনের বাবা সমকালকে বলেন, 'হতভাগা অভিভাবক আমি। আমাদের সন্তান এখানে চান্স পেয়েছে, আমরা মনে করি সে শিক্ষা নিয়ে দেশের জন্য, মানুষের জন্য, আমাদের জন্য কিছু করবে। এখন একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাই, বোন বন্ধুদের গুলি লেগেছে। এতে ছেলেদের রাগ, অভিমান হতে পারে। যদি আপনারা (শিক্ষকরা) একটা ত্যাগের মনোভাব নিয়ে বাচ্চাদের বাঁচাতে আসেন একটা মহৎ দৃষ্টান্ত হবে।'

তিনি উপাচার্যের উদ্দেশ্যে বলেন, 'ভিসি মহোদয় স্যারের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আপনারও সন্তান আছে। আপনিও একজন বাবা। উনি যদি এসে বলে, বাচ্চারা তোমাদের জীবনের থেকে আমার ভিসি পদ বড় নয়। তোমরা আগে জীবন বাঁচাও। উনি দেশের মধ্যে একজন মহৎ ব্যক্তিতে পরিণত হবেন।'

শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক নষ্ট করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এই ঘটনার পরে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি এই দূরত্ব আমাদের ছেলেদের ফিরিয়ে আনা উচিত। বাচ্চাদের প্রতি বলবো তোমাদের শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষকদের তোমরা কোনোভাবেই অসম্মান করবা না।'

তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আপনারা ত্যাগের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসুন। শিক্ষক মহোদয়ের প্রতি আকুল আবেদন, আপনারা সবকিছু পরিহার করে এই শিক্ষার্থীদের বাঁচান। এরা না থাকলে আপনারা কাদের পড়াবেন? কাদের জন্য শিক্ষকতা করবেন?

ছেলেকে খাওয়ানোর চেষ্টা বা এমন কোনো কথা বলেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, 'আমি তো আমার ছেলেকে বলতে পারবো না, তুমি তোমার অন্য সহপাঠীদের বাদ দিয়ে এখন খাও। সে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে ন্যায়-অন্যায় আমাদের চেয়ে ভালো বুঝতে শিখেছে। আমি তো তাকে একা খাওয়ার কথা বলতে পারবো না। এমনটা বলতে বলতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কিছু সময়ের জন্য থেমে যান।'