করোনাকালে ব্র্যাকের শিক্ষা কার্যক্রম 'ব্রিজ স্কুলে'র সাফল্য ছিল আশাব্যঞ্জক। বৃহস্পতিবার মহাখালীর ব্র্যাক ইন মিলনায়তনে ব্র্যাকের দুটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। ২০১৪ সালে ব্র্যাক এ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে।
সমীক্ষা পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন হেইনম্যান, কানাডার সাইমন ফ্রেজার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক জন রিচার্ডস ও ইউএসএইডের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা শহিদুল ইসলাম। এতে দেখা গেছে, মহামারির শুরুর দিকে অর্থাৎ প্রাথমিকে ২০২০ সালে ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিলেও ২০২১ সালে তা কমে হয়েছে ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। মহামারির আগে প্রাক-প্রাথমিকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণের হার বেশি থাকলেও মহামারি শুরুর পর সে হার কমেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রান্তিক অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পড়াশোনায় ব্যাপক পিছিয়ে পড়েছে। যারা কখনও স্কুলে যায়নি বা প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছিটকে পড়েছে, তাদের নিয়ে এনএফপিই (অ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা) কর্মসূচি পরিচালিত হয়। যাদের কিছু সাক্ষরতা ও সংখ্যার জ্ঞান আছে এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে, তাদের ব্রিজ কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করে যোগ্যতা অনুযায়ী দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। ব্রিজ মডেলে প্রাথমিকের পাঁচ বছরের কোর্স অনুসরণ করে পুনরাবৃত্তি কমিয়ে স্বল্পতম সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ মডেলে দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য চার মাসের ব্রিজ কোর্স আয়োজন করা হয়।
ব্র্যাক ব্রিজ স্কুলের এ কোর্স কতটা কার্যকর, তা বুঝতে এ সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে, প্রান্তিক অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমিয়ে আনছে ব্রিজ স্কুল। গবেষক স্টিফেন হেইনম্যান জানান, তিনি ৬৫টি দেশে কাজ করেছেন এবং বহু স্কুল দেখেছেন। ব্রিজ স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও মনোরম। শহিদুল ইসলাম জানান, ব্রিজ স্কুলের চার মাসের কোর্সটি বিশ্বে অনন্য। কেননা, এটি ঝরে পড়া শিশুদের পুনঃরায় পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে। ব্রিজ স্কুল মডেলটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অনেক কার্যকর।