ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে দেশের প্রথম স্কুল অব ফার্মেসির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার ‘লঞ্চিং অব স্কুল অব ফার্মেসি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে স্কুল অব ফার্মেসি।

প্রধান অতিথি হিসেবে স্কুল অব ফার্মেসির এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ, ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং এবং স্কুল অব ফার্মেসির ডিন প্রফেসর ড. ইভা রহমান কবির।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ড্যাউল্যান্ড। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টশিল, ঢাকায় নেপাল দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি রঞ্জন যাদব ছাড়াও অনুষ্ঠানে ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্টির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবিদবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসির এই যাত্রা ফর্মুলেশন থেকে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) রূপান্তরে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে শিখরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। সেইসঙ্গে এটি গাজীপুরে ২০০ একরের ওপর নির্মিতব্য এপিআই পার্ক তৈরির প্রচেষ্টাকেও আরও জোরদার করবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প ইতোমধ্যে দেশের ৯৭ ভাগ চাহিদা পূরণ করছে এবং ১৫৭টি দেশে আমরা আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য রপ্তানি করছি, ২০২৫ সাল নাগাদ এই রপ্তানি আয় প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে ফার্মেসি শিক্ষার গবেষণা এবং রোগীর যত্ন বিষয়ক ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসি। তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন নেতৃত্বসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠুক, যারা সমাজে চিন্তাশীল এবং টেকসই অবদান রাখবে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসির অন্যতম লক্ষ্য দৃঢ় নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে অবদান রাখা, যারা ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা পূরণে চাকরি ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীলতার প্রয়োগ ঘটাবে।

স্কুল অব ফার্মেসির এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রযুক্তি এবং পুঁজির মতো এটিও প্রধান চালিকাশক্তি। রূপকল্প ২০৪১ অর্জনে একটি উন্নত জাতি হিসেবে পরিণত হতে এবং মানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সহায়ক ইকোসিস্টেম তৈরিতে সরকারের একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, স্কুল অব ফার্মেসির এই যাত্রা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্লোগান ‘ইন্সপায়ারিং এক্সেলেন্সকে’ই প্রতিফলিত করছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অফ স্কুল অব ফার্মেসির ডিন প্রফেসর ইভা রহমান কবির বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজে দীর্ঘ মেয়াদে পরিবর্তন সাধনে সবোর্চ্চ মানের ও প্রাসঙ্গিক শিক্ষা-গবেষণা পরিচালনা করাই স্কুল অব ফার্মেসির লক্ষ্য। শিক্ষা ও গবেষণার উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে আমেরিকার নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া নর্থ স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইংল্যান্ডের লিডস বেকেট ইউনিভার্সিটির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জিং ক্যারিয়ার গ্রহণে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসির অবদান আলোকপাত করেন বিভাগের অ্যালামনাই ওয়াসিফ বিন আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে এই নবযাত্রায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও স্কুল অব ফার্মেসির প্রতি অভিনন্দন জানান ক্যালিফোর্নিয়া নর্থস্টেট ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ফার্মেসির ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর ড. ফখরুল আহসান এবং কিংস কলেজ লন্ডনের মেডিসিনাল কেমিস্ট্রি ইন স্কুল অব ক্যান্সার অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেসের প্রফেসর ড. মিরাজ রহমান।