সহপাঠীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কবির আহমেদ কৌশিককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শৃঙ্খলা পরিষদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

শৃঙ্খলা পরিষদের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে তাঁর সহপাঠী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া সভায় পরীক্ষায় অসদুপায়ের দায়ে ঢাবিসহ অধিভুক্ত কলেজের ৪৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর প্রক্টরের কাছে কবির আহমেদ কৌশিকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী। দু'দিন আগে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দাবি করে অভিযোগে তিনি বলেন, সহপাঠী কৌশিক ২৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ফোন করে সেমিনার লাইব্রেরিতে পড়াশোনা-সংক্রান্ত আলোচনার জন্য আসতে বলে। বেলা সোয়া ৩টার দিকে গ্রন্থাগারে এসে কৌশিক আমাকে আচমকা জড়িয়ে ধরে। সেখানে অন্য কেউ ছিলেন না।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় অপ্রস্তুত হয়ে আমি সেমিনার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সে বাধা দেয় এবং অশালীন আচরণ করে। তাকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় আবারও দৌড়ে এসে পথ আটকে যৌন নিপীড়ন করে। এ ঘটনার পরেও সে আমাকে ফোন করতে থাকে।

এতে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে যাই। এমনকি ঘটনার পরদিন দুপুরে ওই ছাত্র এসে কৌশলে বাসায় ঢুকে দরজায় সজোরে ধাক্কা দেয়। না খুললে সিঁড়িতে বসে থাকে এবং এক পর্যায়ে দারোয়ানকে জানালে, তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় আমি বাসা থেকে বের হওয়ামাত্র সে পথরোধ করে হয়রানির চেষ্টা করে।

অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় সংবাদমাধ্যমকে কৌশিক জানিয়েছিলেন, আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি ওই ছাত্রীর সঙ্গে 'অসদাচরণ' করেছিলেন।