ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

প্রতিহিংসায় নম্বর কমালেন ঢাবি শিক্ষক, অভিযুক্ত অধ্যাপক নাদির জুনায়েদ

প্রতিহিংসায় নম্বর কমালেন ঢাবি শিক্ষক, অভিযুক্ত অধ্যাপক নাদির জুনায়েদ

অধ্যাপক নাদির জুনাইদ। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২১:৩১ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৩:১৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একদল শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম অধ্যাপক নাদির জুনাইদ। বুধবার সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের কাছে তাঁর বাসভবনে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা। তাতে বলা হয়, ওই শিক্ষক ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরীক্ষার ফল খারাপ করিয়ে দিয়েছেন।

অভিযোগ দেওয়ার সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করে পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিও জানান তারা। 

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক নাদির জুনাইদ সমকালকে বলেন, ‘শুধু একজন শিক্ষকের পক্ষে নম্বর কম দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং অন্যদের তুলনায় আমি বেশি নম্বর দিয়েছি। মিথ্যা কথা লিখে আনফরচুনেট মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে ওরা। এগুলোর অনেক কারণ আছে, সামনে আমরা চেয়ারম্যানশিপ। মিথ্যা বলে গেলে সমাজের জন্য ভাল হবে না। আমি তো এককভাবে মূল্যায়ন করিনি, আমি ছিলাম ভাইবা প্যানেলে। ছিল চারজন, সাংবাদিক স্বদেশ রায়সহ চারজন। সহযোগী অধ্যাপক ড. এএসএম আসাদুজ্জামান ও শাওন্তী হায়দার। চারজন আলাদাভাবে নম্বর দিয়েছি, তারপর গড় করে নম্বর দেওয়া হয়েছে। আমি যদি একা কম দিয়ে থাকি, অন্য তিনজনের বেশি থাকলেও তো নম্বর বেড়ে যাবে। আরেকটি বিষয়, কমপ্রিহেনসিভের লিখিততে আমার দেওয়া নম্বর অপর পরীক্ষকের চেয়ে বেশি। যে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, উপাচার্য বরাবর যে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অনেকে বলছে, এটা ষড়যন্ত্র। যুক্তি দিয়ে যদি কথা না বলা হয়, দেশে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। ২৮ জনের মতো শিক্ষার্থী অভিযোগকারী অথচ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৫৪ জন। বাকিরা অভিযোগ দেয়নি, তাদের অনেকে আমাকে বলেছে, যতটুকু প্রাপ্য নম্বর ততটুকুতেই তারা সন্তুষ্ট।’

লিখিত অভিযোগে বিভাগের স্নাতকোত্তর (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) ১২তম ব্যাচের ২৮ জন শিক্ষার্থী সই করেছেন। উপ-উপাচার্য সীতেশ চন্দ্র বাছারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন উপাচার্য। উপ-উপাচার্য সমকালকে বলেন, ‘বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত মঙ্গলবার ওই ফলাফল প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জনই সিজিপিএ ৩.০০ এর নিচে পেয়েছেন। এ ফলাফল তাদের সবাইকে হতবাক করেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক ফল প্রকাশের আগেই অন্য ব্যাচের ক্লাসে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ‘খারাপ ফলাফল’ নিয়ে মন্তব্য করেন। তাছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে পরীক্ষার্থীদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলেছিলেন।

আরও পড়ুন

×