যমুনা নদীর প্রশস্ততা কমিয়ে এনে করিডোর স্থাপন করতে গেলে এর তলদেশের গভীরতা ও প্রবাহের গতি অনেক বেড়ে যাবে। এতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে নদীর ব্যবস্থাপনা। এ ছাড়া চরগুলোকে স্থিতিশীল করতে গেলে নতুন চর সৃষ্টি হবে। ফলে নদীর জীববৈচিত্র্যের বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাবে। এসব কারণে যমুনা নদী ছোট করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল শনিবার বুয়েটের কাউন্সিল ভবনে ‘বহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পদ্ধতির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় গবেষণা ফলাফল উপস্থাপনকালে এসব কথা জানান গবেষক দলের প্রধান ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মানসুর রহমান। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত সভাপ্রধান ছিলেন।

সম্প্রতি যমুনা নদীকে ছোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবো মনে করে, এত চওড়া নদীর প্রয়োজন নেই। তাই দেশের দুটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রোয়েন বাঁধ দিয়ে নদীকে সংকুচিত করে সাড়ে ৬ কিলোমিটারে নামিয়ে আনার কথা ভাবছে সংস্থাটি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক মানসুর রহমান বলেন, ১৯৮৭-৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যার পর যমুনা নদীর ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যানের অধীনে একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ‘রিভার করিডোর’ নামে একটি ধারণা থেকে নদীর প্রশস্ততা কমিয়ে আনা এবং নদীকে স্থায়ীভাবে স্থিতিশীল করে প্রাকৃতিক প্রবাহ বজায় রাখার চিন্তা করা হয়। এই ধারণা বাস্তবায়িত হলে নদী কীভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব জীববৈচিত্র্য ও গতিপথের পরিবর্তন ঘটায়, তা নিউমেরিকাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে তাঁরা গবেষণা করেন।

তাঁদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রশস্ততা কমানো হলে নদীর তলদেশের গভীরতা ৪০ মিটারের বেশি বাড়বে। চরগুলোকে স্থিতিশীল করতে গেলে দেখা যায়, দুটি স্থিতিশীল চরের মধ্যবর্তী অংশে পলি জমে ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বড় চরের সৃষ্টি হয়। সৃষ্ট নতুন চরের পাশ দিয়ে যে চ্যানেল তৈরি হয়, সেটি প্রবাহের গতিও সেকেন্ডে প্রায় সাড়ে তিন মিটারের মতো। ফলে নদী তার জীববৈচিত্র্যের বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলবে। জীবিকা নির্বাহ কৃষি, মৎস্য ইত্যাদির লভ্যতা হারিয়ে ফেলবে।

গবেষক দল সুপারিশ করে, নদীর আকার-আকৃতি ও অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো এবং সেই সঙ্গে গড়ে ওঠা জীববৈচিত্র্য ও লভ্য জীবনযাপনের অপরিহার্য উপকরণগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। এগুলো অপরিবর্তিত রেখে ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা গেলে সর্বোত্তম ফলাফল অর্জন করা যাবে।

অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, যমুনা অনন্য নদী। এর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় আরও আলোচনা করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আবদুল মতিন ও রেজাউর রহমান।