ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

আরিফিন শুভর

ময়মনসিংহ টু ঢাকা

ময়মনসিংহ টু ঢাকা

আরিফিন শুভ

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০০:২৪ | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০০:৫৭

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারগাড়া গ্রাম। সেখানেই কেটেছে ধুলামাখা শৈশব। বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। তবে ফেলে আসা শৈশবের আঙ্গারগাড়া গ্রামেই যেন সবসময় মন পড়ে থাকে। মা গৃহিণী। পরে অবশ্য সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আমি ছোট। অনেক কড়া শাসনে বড় হয়েছি। অভাব-অনটনের মধ্যেই বেড়ে ওঠা।

নিম্ন-মধ্যবিত্তের জীবনযাপন অসহায় লাগত। একদিন হুট করে নতুন সিদ্ধান্ত নিলাম। ভাবলাম ঢাকায় গিয়ে মিডিয়ায় কাজ করব। তখন আমার বয়স ১৮ বছর। কিন্তু মা-বাবা চাইতেন না তাদের ছেলে মিডিয়ায় কাজ করুক। তাই পরিবার থেকে কিছুতেই সায় মিলল না। সংসারে ছোট ছিলাম বলে অনেক আদর পেতাম। সেই আদরের মায়াজাল থেকে বেরিয়ে পরিবারের অমতে আশপাশের কাউকে কিছু না জানিয়ে ২৫৭ টাকা নিয়ে ঢাকায় আসি।

সেই টাকা দিয়েছিল আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইমতিয়াজ ও আসিফ। ঢাকায় এসে বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে র‌্যাম্পে হাঁটার সুযোগ মেলে। তখন অনেক ফ্যাশনসচেতন ছেলেমেয়ের মধ্যে অসহায় লাগত। সবার মতো ফ্যাশনেবল না হওয়ায় মাঝে মাঝে হতাশায়ও ভুগেছিলাম। আমার সীমাবদ্ধতা জানি। স্ট্রাগল ছাড়া কেউ সাফল্য পেয়েছে বলে আমার মনে হয় না। এটা মনে করতাম বলেই একটুও কষ্ট পাইনি। জীবনে যা পেয়েছি, অনেক যুদ্ধ করে পেয়েছি।

র‌্যাম্প থেকে পা দিলাম সোজা একটি রেডিও স্টেশনে। সেখানে দীর্ঘদিন আরজে হিসেবে কাজ করেছি। এরপর শুরু হলো টিভি নাটকের যাত্রা। 'হ্যাঁ না' নাটক দিয়ে শুরু। এরপর বহু নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয় করেছি। একসময় সিনেমায় অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিই। ছেড়ে দিই ছোটপর্দায় অভিনয়। কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খেতে হলো। অভিনেতা ও নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় 'ওয়ারিশ' নামে একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। ছবিটি করতে গিয়ে অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে বেশ ঘটা করে সবাইকে জানান দেওয়া হয় সে খবর।

সিনেমার নায়ক হিসেবে অভিষেক হবে। রঙিন স্বপ্নের জাল বুনেছিলাম। কিন্তু ছবিটি আর হলো না। ক্যারিয়ার শুরুতে এ রকম একটি হোঁচট আমার জন্য বেশ পীড়াদায়ক ছিল। এরপর এফডিসি ঘরানার ছবির প্রস্তাব পেতে থাকি। কিন্তু সেখানকার কিছু মানুষের কাছ থেকেও প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছি। একসময় আমার উচ্চতা নিয়েও তারা কথা তোলে। এত লম্বা নায়কের নায়িকা পাওয়া মুশকিল হবে! এ রকম আরও কত কী। এসবে আমি কান দিতাম না। একসময় খিজির হায়াত খানের 'জাগো' ছবিতে অভিষেক হলো। খুলে গেল ভাগ্যের দুয়ার। ওই ছবিতে চরিত্রটি ছোট হলেও দর্শকের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পেয়েছি।

কারণ এটি ছিল ফুটবল নিয়ে এ দেশের প্রথম কোনো চলচ্চিত্র। দশ বছরের সিনেমা ক্যারিয়ারে ২৩টি ছবিতে অভিনয় করেছি। রাষ্ট্র আমাকে দিয়েছে সিনেমার সর্বোচ্চ সম্মাননা। ব্যর্থতা-সফলতা হাত ধরাধরি করে চলে।

সবসময় ব্যর্থতা দূরে ঠেলতে চেয়েছি। তারপরও জীবনে ব্যর্থ হয়েছি অনেকবার, কিন্তু দমে যাইনি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে পথ চলেছি। জানি যেতে হবে বহুদূর।

আরও পড়ুন

×