আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোকাহত কলকাতা

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০১৮      

রক্তিম দাশ, কলকাতা

নব্বইয়ের দশকে আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তুমি’ গানটি প্রবল ধাক্কা দেয় কলকাতার যুবসমাজকে। একের পর এক বাংলা ব্যান্ড গ্রুপের জন্ম হতে থাকে এই একটি গানকে অবলম্বন করে। গোট নব্বইয়ের দশক কলকাতায় এমন কোন ব্যান্ডের অনুষ্ঠান হয়নি যেখানে এই গানটি গাওয়া হয়নি। কলকাতার প্রজন্ম আকড়ে ধরে আইয়ুব বাচ্চুকে। তিনি হয়ে ওঠেন ‘প্রিয় বাচ্চু ভাই’। বৃহস্পতিবার তার অকাল প্রয়াণে শুধু কলকাতার সংগীত মহল নয় পুরো কলকাতাবাসী শোকাহত হয়ে পড়েন।

বৃহস্পতিবার সকালে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে কলকাতা জুড়ে। তার অনুরাগীরা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেন। কলকাতার পূজামণ্ডপে মাইকে বাজানো হতে থাকে তার সাড়া জাগানো গানগুলো।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় গায়ক ও সংগীত পরিচালক অনুপম রায়। তিনি বলেন, ‘বাচ্চু ভাইয়ের এভাবে হঠাৎ করে চলে যাওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন। বাংলা গান চিরদিন মনে রাখবে এই চমৎকার গুণী মানুষটিকে।’

বিশিষ্ট গায়ক ও চলচ্চিত্র পরিচালক অঞ্জন দত্ত বলেন, ‘ভয়ানক ক্ষতি। এর বেশি আর বলতে পারবো না।’

কলকাতা জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড ফসিলসের রূপম ইসলাম বলেন, ‘আমার গড়ে ওঠার প্রতিটি পরতে ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু।  শুরুর দিকে তিনি বলতেন, রক হচ্ছে না কলকাতায়। আমি জানি তুই করবি। যে জীবনীশক্তি দেখাতে দেখাতে চলে গেলেন তা অবিশ্বাস্য। গত ১০ জানুয়ারি শেষ যে বার কলকাতায় এলেন, আমার বাড়িতে এলেন।  আমরা একসঙ্গে গানবাজনা করলাম। তার সঙ্গে সেটাই যে শেষ গান বাজনা আমি বুঝিনি। ওই দিন অনেক পরিকল্পনা করেছিলাম দু’জনে। কিন্তু কিছুই বাস্তবায়ন হলো না।’

অপর জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড ক্যাকটাসের সিদ্ধার্থ রায় (সিধু) বলেন, ‘বাচ্চুভাই একটি কিংবদন্তি, একটি আইকন, একটি চিরসবুজ অনুপ্রেরণা। আপনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন।’ 

কলকাতার শুধু সংগীতমহল নয় আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণে শোকাহত সাংবাদিক থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। কলকাতার দৈনিক বর্তমান পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক মৃণালকান্তি দাস বলেন, ‘আমরা যারা কৈশোরে-যৌবনে ধাক্কা খেয়েছি, আমরা জানি আইয়ুব বাচ্চুর গান ছিল আমাদের ক্ষতস্থানের মলম। বুকেরই সব কষ্ট দু’হাতে সরিয়ে।’

ভারতের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভীষণ খারাপ লাগছে। ওনি আমাদের ছাত্রজীবনের প্রিয় শিল্পী ছিলেন।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে আইয়ুব বাচ্চুকে অচেতন অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ষাটের দশকে চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম আইয়ুব বাচ্চুর। নব্বইয়ের দশক থেকে ব্যান্ড সংগীতের চর্চা শুরু করেন তিনি। এরপর গান ও গিটারের জাদুতে ভক্ত-শ্রোতাদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই গায়ক ও সংগীত পরিচালক। গত ১৬ আগস্ট ছিল তার শেষ জন্মদিন।

বিষয় : আইয়ুব বাচ্চু