ভক্তের কান্না থামাতে পারছিলেন না কেউ!

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০১৮     আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

আইয়ুব বাচ্চু মানেই গিটারের সুরের অন্যরকম উন্মাদনা। যে উন্মাদনায় ভক্তরা হন মুহিত। সেই শিল্পীই আজ নিথর হয়ে পড়ে আছেন। সবাই তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন  তাতে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না তিনি। আর দেখাবেনও না কোন দিন! তিনি যে এখন অন্য জগতের বাসিন্দা। যে জগত থেকে আর ফিরবেন না রূপালি গিটারের এ জাদুকর।  

কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার সকালে মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও শুভেচ্ছা জানাতে যান প্রিয় শিল্পীকে। প্রিয় শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নাটোর থেকে ছুটে এসেছেন  ৩৯ বছর বয়সী তার  ভক্ত  রাশেদ খান মাসুম । শ্রদ্ধা জানাতে এসেই শহীদ মিনারে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদছিলেন। যে কান্না থামাতে পারছিলেন না কেউ।

কান্না বিজড়িত কণ্ঠে রাশেদ খান বলেন,  ‘১২ থেকে ১৩ বছর বয়স থেকে বাচ্চু ভাইয়ের গান শুনে আসছি। সুখে-দুখে সবসময় তার গানই আমার সঙ্গী। গতকাল যখন শুনি আমার প্রিয় শিল্পী মারা গেছেন। প্রথমে মনে করছিলাম  বন্ধুরা মনে হয় আমার সঙ্গে মজা করছেন। খুব রাগ হয় বন্ধুদের প্রতি। পরে শুনলাম সত্যিই চলে গেছেন তিনি। নিশ্চিত হওয়ার পরই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই।’

রাশেদ খান মাসুম  পেশায় মুদি ব্যবসায়ী। নাটোর বড়াইগ্রামের বাসিন্দা তিনি। আইয়ুব বাচ্চুকে বস বলেই সম্মোধন করেন তিনি। জানালেন, ‘চলো বদলে যাই’, ‘এই রুপালি গিটার’, ‘ফেরারি মন’, ‘হাসতে দেখো’, ‘এখন অনেক রাতসহ  ৭০ থেকে ৮০ গান  মুখস্ত তার। প্রিয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে শাহবাগ থেকে  একটা লাল গোলাপ কিনেছেন। শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্য দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে অঝরে কান্না করছিলেন মাসুম। কারও শান্তনার বাণী শুনছেন না তিনি।  

শুধু মাসুমই নন, তার মতো দেশের নানা প্রান্ত থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার শহীদ মিনারে এসেছেন অনেক ভক্ত।  

গতকাল বৃহস্পতিবার মাত্র ৫৬ বছর বয়সে আইয়ুব বাচ্চু মারা যান। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। গিটারের জাদুকর হিসেবে আইয়ুব বাচ্চুর সুনাম ছিল।


বিষয় : আইয়ুব বাচ্চু ভক্ত