ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

এই ক্ল্যাসিক সিনেমাগুলো বাসায় বসে দেখতে পারেন

এই ক্ল্যাসিক সিনেমাগুলো বাসায় বসে দেখতে পারেন

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৩:৫৬ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০০:০০

পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমা চির নতুন। আজও মানুষের হৃদয় জয় করে নেয়। এমন কিছু বাংলা ক্ল্যাসিক সিনেমা আছে, যা একবার নয়, বারবার দেখলেও পুরোনো হয় না। তেমনই কয়েকটি ছবি নিয়ে এ প্রতিবেদন; যা লকডাউনের দিনগুলোয় পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখতে পারেন

পথের পাঁচালী [১৯৫৫]

১৯৫৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্র প্রযোজনা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি পরিচালনা করেন সত্যজিৎ রায়। এটি তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। অপু ত্রয়ী চলচ্চিত্র-সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালীর মুখ্য চরিত্র অপুর শৈশবকে কেন্দ্র করে বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে বাংলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জীবনধারা চিত্রায়িত করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সমস্যা থাকায় নির্মাণকাজ ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ তিন বছর পর তা সম্পূর্ণ হয়। স্বল্প বাজেটে অপেশাদার অভিনেতা ও অনভিজ্ঞ শিল্পীদের নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেন সত্যজিৎ রায়। এ ছবিতে অভিনয় করেন কানু বন্দ্যোপাধ্যায়, করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়, উমা দাশগুপ্ত, চুনিবালা দেবী, রেবা দেবী, তুলসী চক্রবর্তী প্রমুখ।

কাবুলিওয়ালা [১৯৫৬]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প 'কাবুলিওয়ালা' অবলম্বনে ১৯৫৬ সালে তপন সিংহ নির্মাণ করেন একই নামের চলচ্চিত্রটি। এতে অভিনয় করেন ছবি বিশ্বাস, ঐন্দ্রিলা ঠাকুর, রাধামোহন ভট্টাচার্য, আশা দেবী প্রমুখ। ছবির গল্পে দেখা যায়, রহমত ফল বিক্রি করতে কলকাতায় আসে। সেখানে মিনি নামে এক ছোট বাঙালি মেয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। মিনিকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যায়, যাকে সে আফগানিস্তানে রেখে এসেছিল। একদিন রহমত এক চিঠিতে তার মেয়ের অসুস্থতার খবর পায়। সে ঠিক করে দেশে ফিরে যাবে। তাই সে ধারে জিনিস বিক্রি করে। পরে টাকা আদায় করতে গেলে তার এক খদ্দের তাকে অপমান করে। দু'জনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আদালতে রহমতের উকিল তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সরল রহমত সহজভাবেই সবকিছু স্বীকার করে নেয়। বিচারক তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার দিন রহমত মিনির সঙ্গে দেখা করতে যায়। মিনি বড় হয়েছে, শিগগিরই তার বিয়ে। মিনি তাকে চিনতে পারে না। মিনির বাবা মিনির বিয়ের খরচের টাকা থেকে রহমতকে দেশে ফিরে যাওয়ার টাকা দেন আর রহমতের মেয়ের জন্য একটি উপহার পাঠান।

মেঘে ঢাকা তারা [১৯৬০]

১৯৬০ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের প্রেক্ষাপট নিয়ে ঋত্বিক ঘটক নির্মাণ করেন 'মেঘে ঢাকা তারা'। এটি তার পরিচালিত চতুর্থ এবং প্রথম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। শক্তিপদ রাজগুরুর মূল কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখেন মৃণাল সেন। অভিনয় করেন- সুপ্রিয়া চৌধুরী, অনিল চট্টোপাধ্যায়, নিরঞ্জন রায়, গীতা ঘটক, বিজন ভট্টাচার্য, গীতা দে, দ্বিজু ভাওয়াল, জ্ঞানেশ মুখার্জি, রনেন রায় চৌধুরী প্রমুখ। পঞ্চাশ দশকে কলকাতার এক বাঙালি পরিবার ঘিরে কাহিনির আবর্তন। ১৯৪৭-এর ভারত ভাগের পর এই শরণার্থী পরিবার আশ্রয় নেয় কলকাতা শহরের প্রান্তে। ছবির মূল চরিত্র নীতা, পরিবারের বড় মেয়ে। পড়াশোনার পাঠ চুকানোর আগেই পরিবারের হাল ধরতে হয় তাকে। নীতার বৃদ্ধ বাবা স্কুলে পড়ান আর মা ঘরবাড়ি দেখাশোনা করেন। নীতার দুই স্কুলপড়ূয়া ভাইবোন, গীতা আর মন্টু। নীতার বড় ভাই শংকর; সংসারে মন নেই। শংকরের ধ্যান সুর নিয়ে, শাস্ত্রীয় সংগীত চর্চা করে; বড় মাপের সংগীতশিল্পী হতে চায় সে। আশা ছাড়ে না নীতা; স্বপ্ন দেখে ভাই শংকর ও প্রেমিক সনৎকে নিয়ে। পিএইচডি শেষে ফিরে আসবে সনৎ তার কাছে; বিয়ে করবে তাকে।

তিতাস একটি নদীর নাম [১৯৭৩]

অদ্বৈত মল্লবর্মণের উপন্যাসের কাহিনিকে উপজীব্য করে ঋত্বিক ঘটক নির্মাণ করেন 'তিতাস একটি নদীর নাম'। এই ছবির গল্পে দেখা যায় বাসন্তীর বিয়ের হয়েছে। সে তিতাস পাড়ে অপেক্ষায় থাকে খেলার সাথী কিশোর চন্দ্র আর সুবলের জন্য। গ্রামে মালোদের দোলের সময় এক ঝামেলায় ওরা জড়িয়ে পড়ে। রাজারঝির সঙ্গে সাহসী কিশোরের বিয়ে হয়। বউকে নিজ গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়। রাতে ডাকাতরা হামলা করে। নতুন বউ পানিতে ঝাপ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। এ ঘটনায় কিশোর পাগল হয়ে যায়। অন্যদিকে সুবল বিয়ে করে বাসন্তীকে। বিয়ের রাতেই নৌকায় কাজ করতে গিয়ে মারা যায় সুবল। ১০ বছর পর কিশোরের বউ ছেলে অনন্তসহ তার গ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু কিশোর তাকে চিনতে পারে না। রাজারঝির পাশে এসে দাঁড়ায় বাসন্তী। একের পর এক অনেক দিন-মাস-বছর কেটে যায়। হঠাৎ তিতাসের বুকজুড়ে জেগে উঠে চর। সেই চর দখল করতে যায় মালোরা আর জেলেরা। এই ছবিতে অভিনয় করেন- প্রবীর মিত্র, কবরী, রোজী আফসারী, গোলাম মুস্তাফা, রওশন জামিল প্রমুখ।

সীমানা পেরিয়ে [১৯৭৭]

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে 'সীমানা পেরিয়ে'। আলমগীর কবিরের পরিচালনায় নির্মিত এ ছবিতে দেখা যায় একজন গ্রাম্য তরুণ আর এক শহুরে তরুণী ভাসতে ভাসতে এক অজানা দ্বীপে এসে পড়ে। যেখানে কোনো মানুষ বাস করে না। তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়েই ছবির গল্প এগিয়ে যায়। বেঁচে থাকার তাড়নায় একেবারে বিপরীতমনা মানুষের মধ্যেও যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে- এটাই এ সিনেমার বিষয়বস্তু। ছবিটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ ও জয়শ্রী কবির। এ ছাড়া অভিনয় করেন মায়া হাজারিকা, কাফি খান, গোলাম মুস্তাফা প্রমুখ। এই ছবিটি জাতীয় চলচ্চ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করে। সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতাসহ মোট তিনটি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছিল; মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ ও জয়শ্রী কবির।

সূর্য দীঘল বাড়ী [১৯৭৯]

বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদান পাওয়া পূর্ণদৈঘ্য চলচ্চিত্র 'সূর্য দীঘল বাড়ী'। কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের উপন্যাস অবলম্ব্বনে সিনেমাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকের। সিনেমার মূল বিষয়বস্তু ছিল ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৪৭-এর দেশভাগ পরবর্তী সময়কালে বাংলার গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, পুরুষতন্ত্রের নির্যাতন ও ধনীদের শোষণে পিষ্ট এক নারীর জীবন সংগ্রামের গল্প। এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রগুলোয় অভিনয় করেন- ডলি আনোয়ার, রওশন জামিল ও এটিএম শামসুজ্জামান।

ছুটির ঘণ্টা [১৯৮০]

ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন স্কুলের বাথরুমে সবার অজান্তে আটকে পড়ে একটি ১২ বছর বয়সের ছাত্র। আর তালাবদ্ধ বাথরুমে ছুটি শেষ হওয়ার প্রতীক্ষার মধ্য দিয়ে হৃদয়বিদারক নানা ঘটনা ও মুক্তির কল্পনায় অমানবিক কষ্ট সহ্য করার পর কীভাবে একটি নিষ্পাপ কচি মুখ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, এমনই এক ঘটনা নিয়ে পরিচালক আজিজুর রহমান নির্মাণ করেন 'ছুটির ঘণ্টা'। এতে শিশুশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করে সুমন। এ ছাড়া অভিনয় করেন- রাজ্জাক, শাবানা, সুজাতা, শওকত আকবর, এটিএম শামসুজ্জামান প্রমুখ।

পদ্মা নদীর মাঝি [১৯৯৩]

'পদ্মা নদীর মাঝি' কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় গৌতম ঘোষ এটিকে চলচ্চিত্রে রূপ দেন। আবহমানকাল থেকে বয়ে চলা পদ্মা পাড়ের গরিব জেলেদের জীবন, সংগ্রাম, প্রেম আর তাদের ওপর মহাজনদের অত্যাচার এই সিনেমার উপজীব্য। এ ছবিতে অভিনয় করেন- রাইসুল ইসলাম আসাদ, চম্পা, রূপা গাঙ্গুলী, উৎপল দত্ত, রবি ঘোষ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×