হল বন্ধ করলে বিকল্প ব্যবস্থায় সিনেমা দেখাব : গুলজার

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯     আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯      

অনিন্দ্য মামুন

মুশফিকুর রহমান গুলজার

বিদেশি ছবি আমদানির সহজ নীতিমালা ও দেশি ছবির নির্মাণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। সেইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছে, এ বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ না নিলে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির এমন ঘোষণা এবং তার বাস্তবায়ন চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন কিংবা বাণিজ্যিক বিষয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কথা হয় চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজারের সঙ্গে। 

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক ও হল মালিক সমিতি গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলন করে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পরিচালক সমিতি তাদের এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছে?

তারা যদি দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দেন, তাহলে আমাদের কোনো কিছু বলার নেই। এমন তো নয় যে, তাদের সিনেমা হল থেকে আমাদের প্রযোজকরা অনেক উপকৃত হচ্ছেন। এখন প্রায় সবাই জানেন দেশের সিনেমা হলগুলো থেকে প্রযোজকরা কত টাকা তুলে আনতে পারেন। ফলে তারা বন্ধ করলেই কি আর না করলেই কি। এতে আমাদের কিছু হবে না।

প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে গেলে এখন যে ছবিগুলোর কাজ চলছে, সেগুলো চালাবেন কোথায়?

তাদের হলে এগুলো না চালানোই আমাদের জন্য ভালো। একটি ছবি মুক্তির সময় হল মালিককে মেশিন ভাড়া, ব্যানার তৈরি ও পোস্টার বাবদ যে টাকা দেওয়া হয়, অনেক সময় সেই টাকার মুনাফা তো দূরের কথা, খরচের টাকাও হল মালিকরা আমাদের দেন না। ফলে লোকসান গুনতে হয় প্রযোজককে। এ ছাড়া রয়েছে তাদের নানা কারচুপি। এখন তারা হল বন্ধ করে দিলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় দর্শককে ছবি দেখাব। এরই মধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে কথা হয়েছে। দেশের যেখানে যেখানে তাদের অডিটরিয়াম রয়েছে, সেখানে ছবি প্রদর্শন করব।

আপনি কারচুপির কথা বললেন। বিষয়টি খুলে বলবেন?

একমাত্র সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার ছাড়া দেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহে টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা নেই। সিনেমা হল বুকিং এজেন্টরা নানা বাহানায় প্রযোজকদের কাছ থেকে টাকা নেন। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথায় এমনটি আছে- সিনেমা চালাবেন তারা আর মেশিনভাড়া দেবেন প্রযোজক। একটি সিনেমা প্রদর্শনের জন্য তাদের কোনো খরচই নেই। অথচ তারা প্রেক্ষাগৃহে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন, হলের সামনে খাবারের ব্যবসা বসান। মূল কথা- তারা ব্যবসা করবেন, কিন্তু লগ্নি করবেন না। হলে দর্শক আনার জন্য তারা কী করছেন? কিছুই করেননি। হলগুলোকে গুদামঘর বানিয়ে রেখেছেন। সেখানে দর্শক কীভাবে ছবি দেখতে যাবেন?

কিন্তু হল মালিকরা তো বলছেন, দেশের পরিচালকরা ভালোমানের চলচ্চিত্র দিতে পারছেন না বলেই দর্শকও আসছেন না। তাই বিদেশি ছবি আনার জন্য সুবিধা চাচ্ছেন তারা...

যে ছবিগুলো ভালো ব্যবসা করেছে সেগুলো কি টাকা পেয়েছে? একটু খোঁজ নিয়ে দেখবেন তারাও টাকা পাননি। এখন তারা বিদেশি (হিন্দি) ভাষার ছবি চালানোর নীলনকশা বাস্তবায়ন করার জন্য এগোচ্ছেন। তারা সিনেমা হল বন্ধ করে দিলেও আমরা বিদেশি ছবি এ দেশে আসতে দেব না।

বিষয় : গুলজার ঢালিউড বিনোদন

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
তারিখ সেহরি ইফতার
২১ মে '১৯ ৩:৪৪ ৬:৪০
২২ মে '১৯ ৩:৪৩ ৬:৪১
*ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার জন্য প্রযোজ্য
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ