বছর শেষে মুক্তি পাবে ‘মিশন এক্সট্রিম’

প্রকাশ: ২২ মে ২০১৯     আপডেট: ২২ মে ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির দুবাই মিশন শেষে

বহুল দর্শকপ্রিয় পুলিশি অ্যাকশন ও থ্রিলার ধারার ছবি ‘ঢাকা অ্যাটাক’  এর সাফল্যের পর নির্মিত হচ্ছে ‘মিশন এক্সট্রিম’। তবে কর্তৃপক্ষ এটিকে টাকা অ্যাটাকের সিক্যিুয়েল বলতে নারাজ।  গত এপ্রিলেই বাংলাদেশ অংশের শুটিং শেষ করে টিম ‘মিশন এক্সট্রিম’। বাকি ছিল ছবিটির শুধু ২০ শতাংশ কাজ। সেটি সম্পন্ন করতে ১৩ মে ‘মিশন এক্সট্রিম’ এর পুরো দলটি উড়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় শহর দুবাইয়ে। 

এই ছবিটির মাধ্যমেই দুবাইতে কোন বাংলাদেশি ছবির প্রথম শুটিং হয়। বেশ বয় সাপেক্ষ্য কাজ এটি। ঝুকিপূর্ণও বটে। বালু ঝড়েরর কবলে সে ঝুকি উতরে অবশেষে মিশন এক্সট্রিম শেষ করেছে তার দুবাই মিশন। ১৪ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত  দেশটির ১৬টি মনোরম লোকেশনে ৫দিন ব্যাপী  শুটিং কার্যক্রম চলে।  একটি গান এবং বেশ কিছু অ্যাকশন দৃশ্য শুটিং করা হয়। আরিফিন শুভ, সাদিয়া নাবিলা, ফজলুর রহমান বাবুসহ আরও দু’জন জনপ্রিয় অভিনেতা শুটিং-এ অংশগ্রহণ করে।

দুবাই শুটিং য়ে মিশন এক্সট্রিম টিম

এছাড়াও ছবিটির দুইবাইয়ের অংশে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশী এবং কয়েকজন অ্যারিয়ান অভিনেতাও অভিনয় করেন বলে জানান মিশন এক্সট্রিমেরকাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ এবং পরিচালক  সানী সানোয়ার।  

সানী সানোয়ার এর আগে পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার ছবি ঢাকা অ্যাটাকে চিতত্রনাট্য লিখেছিলেন। এবার ‘মিশন এক্সট্রিম’ এ থাকছেন পরিচালক হিসেবে। দুবাই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুবাইয়ের প্রচণ্ড দাবদাহে মধ্যে মরুভূমির তপ্ত বালু উপর দু’দিনব্যাপী চলে একাধিক অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং। মরুভূমির প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পুরো শুটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ বেগ পেতে হয়। যদিও আরিফিন শুভসহ কয়েকজন অভিনেতাকে আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়াতে শুটিং শুরুর বেশ কিছুদিন আগেই দুবাই পাঠানো হয়। তবু প্রচণ্ড বালুঝড় আর উত্তপ্ত বালু প্রতিকূলতা উপেক্ষা করার কোন উপায় ছিল না।  শুটিং প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে দুবাইয়ের বেশ ক’জন স্ট্যান্টম্যান এবং অভিনেতাকে অ্যাকশন দৃশ্যে ব্যবহার করা হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি দর্শকদের কাছে বেশ উপভোগ্য হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’ 

বিদেশে শুটিং বড় বাজেটের প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গে প্রতিকূল পরিবেশ। সব কিছু উতরে গেলেই ভালো একটি প্রজেক্ট দাঁড়ায উল্লেখ করে সানী সানোয়ার বলেন, দেশীয় সিনেমার এই ছোট বাজারের জন্য অত্যন্ত সীমিত বাজেটে সিনেমা নির্মাণ করা খুব দুরহ। কেননা, স্বল্প বাজেটে সিনেমায় মজা খুব কম থাকে। তবুও আমরা ‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমায় দুবাইয়ের শুটিং পর্বে একটি বড় অংকের বাজেট খরচ করেছি। এটি অবশ্যই আমাদের একটি উচ্চাবিলাসী উদ্যোগ। তবে, আমাদের টার্গেট দর্শকদের মন জয় করে এই খরচ উঠিয়ে নিয়ে আসা। এখন দেখা যাক কী ঘটে।

দুবাই শুটিং য়ে মিশন এক্সট্রিম টিম

দুবাইয়ে পুরো শুটিং প্রক্রিয়াটি কো-অর্ডিনেট করেন দুবাই প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী গুলশান আরা। এ ছাড়াও দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস এবং দুবাইভিত্তিক একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে। একটি জায়গায় সিনেমার মূল গল্পের সাথে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আবেগ এবং জীবনধারা অভূতপূর্বভাবে মিশে গিয়েছে যা সিনেমাটিকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে জানান মিশন এক্সট্রিম টিম। 

মিশন এক্সট্রিম ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। সানী সানোয়ার ছাড়াও পরিচালনায় আছেন  ফয়সাল আহমেদ। যিনি ঢাকা অ্যাটাক ছবির সহকারি পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। 

ছবিটি প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ বলেন, মরুভূমিতে এতটা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শুটিং করার সময় শুধু একটি কথাই মনে হয়েছে যে, দর্শকরা এই দৃশ্যগুলো উপভোগ করবেন। তাছাড়া আমি নিজেও আমাদের দেশীয় সিনেমায় এরকম কিছু মুহূর্ত বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করতে পেরে পুলকিত ছিলাম। 

দুবাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাধ্যমে সিনেমাটির প্রায় নব্বই শতাংশ শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই বাকি দশ শতাংশ শুটিংও সম্পন্ন হবে। বুধবার (২২ মে) থেকে শুরু হয়েছে সিনেমাটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের শেষের দিকে ‘মিশন এক্সট্রিম’ মুক্তি দেয়া হবে বলে মিশন এক্সট্রিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়।  

বিষয় : মিশন এক্সট্রিম বিনোদন আরিটিন শুভ