নাটকে বাজেট নেই, মানও নেই

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

এখন নাটক নির্মাণ করে লাভ হওয়া দূরের কথা, আসল টাকা ফিরে পাওয়াও কষ্টকর।

টিভিতে প্রতিদিন এক ঘণ্টা, ধারাবাহিক সব মিলিয়ে প্রায় ৩০টি নাটক প্রচার হয়। তারকাসমৃদ্ধ এসব নাটকে নেই আগের সেই জৌলুস। কেন? উত্তর খুব সহজ। নেই গল্প, নেই শিল্পীদের অভিনয়ে কোনো প্রাণ। নাটকের এ বেহাল দশার অন্তরালে যে সমস্যাটি বারবার সামনে এসেছে, তা হলো 'বাজেটস্বল্পতা'। এখন নাটকের বাজেট কত তা নিয়েই এই প্রতিবেদন 

পরিচালক :ভাই, কোরবানির ঈদের জন্য একটা নাটকের গল্প দেন।

নাট্যকার :কী ধরনের গল্প?

পরিচালক :ধামাকা প্রেমের গল্প, না হলে কমেডি দেন।

নাট্যকার :শহরের, না গ্রামের?

পরিচালক :এই সময়ে গ্রামের নাটক; বাজেটে কুলাইতে পারুম না। 

নাট্যকার :নাটকের চরিত্র কয়টা থাকবে?

পরিচালক :দু'জন হলে বেশি ভালো। বোঝেনই তো, ইউটিউব ভিউ আর স্পন্সরের চাহিদার পাশাপাশি চ্যানেলেও...

নাট্যকার :আউটডোর, না ইনডোর করতে চান?

পরিচালক :ইনডোরে করতে পারলে ভালো; তবে চাইলে বাড়ির সামনের রাস্তায় দুই একটা সিন রাখলেও রাখতে পারেন। 

নাট্যকার :কবে লাগবে স্ট্ক্রিপ্ট?

পরিচালক :যত দ্রুত পারেন। ভাই,... এই জুটির কথা মাথায় রাইখেন। তারা দু'জনেই ডেট দিছেন এই মাসের ২৫ ও ২৬। এই দুই দিনের মধ্যেই বানাতে হবে।

নাট্যকার :ঠিক আছে, হয়ে যাবে।

পরিচালক :ভাই, দেখবেন গল্পটা যেন দুর্দান্ত হয়...

নাট্যকার :ঠিক আছে ভাই, চিন্তা করবেন না... পেয়ে যাবেন...

একজন পরিচালক ও নাট্যকারের কথোপকথন যদি এমন হয়, তাহলে দর্শক তাদের কাছ থেকে কী ধরনের নির্মাণ আর গল্প আশা করতে পারেন! ফলে এখনকার নাটক মানেই তরুণ-তরুণীর প্রেম কিংবা হা-হা হি-হি কমেডি। যে কারণে টিভিতে বেশিরভাগ সময় নায়ক-নায়িকা আর কাতুকুতু দিয়ে হাসাতে পারা অভিনেতাদেরই আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। ভালো গল্প আর চরিত্রের অভাবে শক্তিশালী অনেক প্রবীণ অভিনয়শিল্পীর পর্দা উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ ছাড়াও গত কয়েক বছর ধরে টিভি নাটকের অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় নাটকের মান যা-তা করে ফেলেছেন। ফলে নাটকে না পাওয়া যায় ভালো গল্প, না পাওয়া যায় অভিনয়। প্রতিনিয়ত নিম্নমানের নাটক প্রচার হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থায়। চ্যানেলে ইন হাউস থেকে নাটক চলে এসেছে বিজ্ঞাপনী এজেন্সির কাছে। কয়েকটা এজেন্সি ধীরে ধীরে টিভি চ্যানেলের সব নাটক দখল করে নিয়েছে অল্প সময়ে; খুব দক্ষতার সঙ্গে। এখন এজেন্সির দেওয়া নাটক সব চ্যানেলে মহাউৎসবে চলছে; বিজ্ঞাপনের ঘাটতি নেই, তবে দর্শক দেখছে না। কেন? মানহীন নাটকের জন্য চ্যানেল দায়ী করছে নির্মাতাদের। আর নির্মাতারা দায়ী করছেন বাজেটস্বল্পতাকে। 

এই সময়ে নাটকের জনপ্রিয় জুটি নিশো ও তানজিন তিশা

চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাদের আর্থিক অসঙ্গতির জন্য বিজ্ঞাপনের বাজেট কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন। আর বিজ্ঞাপনদাতারা দায়ী করছেন চ্যানেলগুলোর দর্শক হারানোকে। যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে সবাই হয়তো ঠিকই বলেছেন। কিন্তু সমাধানের পথটা নির্দিষ্ট করতে পারছেন না। টেলিভিশন নাটকে নায়ক ও নায়িকা এই দুই চরিত্রের জন্য কয়েকজন শিল্পীই ঘুরেফিরে অভিনয় করেন। এ অবস্থারও পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

কেউ বলছেন, দাম বাড়ালে মান বাড়বে, আবার কেউ বলছেন, মান বাড়ালে দাম বাড়তে বাধ্য। সত্যিকার অর্থেই টিভি নাটক ব্যবসা এখন অনেকটাই যেন অরাজকতায় পরিপূর্ণ। কোনো নিয়ম নেই, নীতি নেই। যার যা খুশি তাই করছে। অরাজকতাময় এই মহামন্দা বাজারের পাড়ে দাঁড়িয়ে যারা সমাধানের কথা ভাবছেন, তারা নিজেরা জানেন, সমাধান খুব সহজ নয়। অনেকেই মনে করছেন, স্বল্প বাজেটের কারণে হাতেগোনা কয়েকটি নাটক বাদে বেশিরভাগই মানহীন। একটি ভালো নাটক নির্মাণের জন্য প্রয়োজন ভালো বাজেটের। 

তাহলে প্রশ্ন জাগে, একটি ভালো টিভি নাটকের বাজেট আসলে কত? বিভিন্ন নির্মাতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি ভালো নাটক নির্মাণে ৯০-এর দশকে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পাওয়া যেত। গল্পভেদে টাকার পরিমাণ আরও বেশি হতো। কিন্তু বর্তমানে একটি এক ঘণ্টার নাটকের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা পাওয়া যায়। অথচ নির্মাণ ব্যয় থেকে শুরু করে শিল্পীর সম্মানী সব আগের চেয়ে কয়েক গুণ দাঁড়িয়েছে। একটি নাটকের খরচের ধাপগুলো হলো শুটিং লোকেশন, প্রপস, প্রডাকশন ম্যানেজার এবং বয়, ক্যামেরা, লাইট, ট্রলি/ডলি, জিব আর্ম, ক্রেন, স্ট্যাডিক্যাম, গাড়ি, খাবার, সম্পাদনা, ক্যামেরাম্যান, সহকারী পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক। সাধারণত কম-বেশি সব নাটকের ক্ষেত্রে এসব বাবদে খরচ প্রায় একই ধরনের হয়ে থাকে। তবে খরচের বড় একটা অংশ যায় শিল্পী সম্মানী খাতে। কোন কোন শিল্পীকে নিয়ে কাজ করা হবে, তার ওপর নাটকের বাজেট ওঠানামা করে। আর আমাদের দেশে শিল্পী সম্মানীর কোনো নির্ধারিত তালিকা নেই। ফলে যে যার মতো শিল্পী সম্মানী আদায় করে নিচ্ছেন।

একটি নাটকের মূল বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি দিতে হয় শিল্পী সম্মানী বাবদ। এখন এক ঘণ্টার নাটকের গল্পের জন্য গল্পকারকে দেওয়া হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়ে কমও দেওয়া হয়। অথচ গল্পই একটি নাটকের প্রাণ। একজন ক্যামেরাম্যানকে দিতে হয় প্রতিদিনে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। এ ছাড়াও প্রধান সহকারী পরিচালকের সম্মানী আলোচনা করে ঠিক করে নেন। তবে অন্য সহকারী পরিচালক প্রতিদিনের জন্য ৫০০/১০০০ বা সর্বোচ্চ ২০০০ টাকার বেশি পান না। লাইটের ক্ষেত্রে গড়ে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগে। ক্যামেরা ভাড়া ৩ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটা নির্ভর করে কোন ক্যামেরা দিয়ে নাটকটির চিত্রায়ণ হচ্ছে, তার ওপর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি এক ঘণ্টার নাটক বা ধারাবাহিক নাটক কেনার ক্ষেত্রে টিভি চ্যানেলগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো মূল্য নির্ধারণ করা নেই। নেই কোনো নীতিমালাও। ফলে যে কেউ তার ইচ্ছামতো নাটক নির্মাণ করে টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা প্রচার করতে পারছেন। অনেক পরিচালক এখন এক ঘণ্টার নাটক বানাতে আগ্রহী হন না। যারা বানান তারা অর্থ লগ্নির চিন্তা করে পিছিয়ে যান।

একটি নাটক নির্মাণ করে লাভ হওয়া দূরের কথা, আসল টাকা ফিরে পাওয়াও কষ্টকর। শিল্পীদের সম্মানী বৃদ্ধির কারণে দেখা যায় নাটকের পুরো খরচের অর্ধেকই চলে যায় শিল্পী সম্মানীতে। বাকি অর্ধেক পুরো নাটকের সব খরচ। এদিকে তারকা শিল্পী ছাড়া নাটক না বানালে স্পন্সরে ঝামেলা হবে, চ্যানেলে নাটক বিক্রিও ঝামেলা হবে। গত কয়েক বছর ধরে বাজেটস্বল্পতার কারণে এখনকার বেশিরভাগ নাটকে থাকে না কোনো পরিবার। শুধু নায়ক-নায়িকার ওপর ভর করেই নির্মিত হচ্ছে নাটক। ফলে পরিচালকরা দু'জন তারকা শিল্পীকে নিয়ে কাজ করেন। অন্যদিকে নাটক নির্মাণের বাজেট কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ নাটকের দৃশ্যধারণ হয় ঢাকা; বড়জোর পুবাইল-হোতাপাড়ার আশপাশে। অনেক পরিচালক আক্ষেপ করে বলেন, 'এখন নাটকের সব টাকা নিয়ে যাচ্ছে প্রধান দুই চরিত্র। যে কারণে পরিবার ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে নাটক।' 

আলী যাকের মনে করেন, 'অতিমাত্রায় টিভি চ্যানেল, অতিরিক্ত নাটক নির্মাণ, নাটকের বাজেট হ্রাসসহ অনেক কারণে নির্মাণ আর অভিনয়, দুইয়ের মানই কমেছে। নাটক আর অভিনয়ে গভীরতা কমে গেছে। নাটক হয়ে গেছে শুধুই কমেডি ও প্রেমকেন্দ্রিক। নতুনদের মেধা আছে, কিন্তু কাজে লাগানোর মতো সুযোগ কি আমরা তাদের দিতে পারছি?, আবুল হায়াত বলেন, 'এখনকার নাটকে ভাঁড়ামি, ২-৩ জন শিল্পীনির্ভর। আর গল্প ছাড়াই নাটক হচ্ছে। নতুনদের অভিনয় দক্ষতার বড়ই অভাব! ফলে তারা মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে না। মানহীন নাটক দিয়ে তারা কতটুকু দর্শক নজর কাড়বে?' অভিনেতা মামুনুর রশীদ বলেন, 'এখন নাটক নির্মাণ করছি না। এর কারণ দুটো চরিত্র যদি সব টাকা নিয়ে যায় তাহলে কীভাবে বাকি শিল্পীদের টাকা দেব? অনেকেই দু'জন শিল্পী নিয়ে নাটক নির্মাণ করছেন, কিন্তু আমি তো তা পারি না।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেন, 'আমাদের আসলে কিছু করার নেই। কারণ টিভি থেকে বলে দেওয়া হয়, কাকে কাকে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যখন সেই শিল্পীর কাছে সিডিউলের জন্য যাই, তখন তিনি নাটকের অর্ধেক টাকা দাবি করেন। এখন একটা নাটকে যে বাজেট থাকে, তার ৭০ ভাগ টাকা নিয়ে নেন নায়ক ও নায়িকা। আমরা কীভাবে পরিবার নিয়ে সুন্দর একটি নাটক নির্মাণ করব? ফলে প্রায় নাটকের গল্প ও নির্মাণ একই রকম হয়ে যাচ্ছে।' নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, 'এখনকার নাটকগুলোর গল্পে কোনো ভিন্নতা না থাকার কারণ, যাদের হাত ধরে নাটকের গল্পে পরিবর্তন হয়েছিল, তারা এখন মিডিয়ার অস্থিরতার কারণে নাটক বানানো থেকে দূরে চলে গেছেন। ভালো বাজেট না পেলে তারাও নির্মাণে আসছেন না। ফলে নতুন পরিচালকরাও কিছু শিখতে পারছেন না।' ডিরেক্টর গিল্ডসের সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, 'নাটকের জন্য আমাদের দেশে কোনো প্রোপার বাজেট নেই। এখন যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে নাটকের মানও তেমন হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের উচিত চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং নাটকের স্পন্সর যারা করছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে একটা ভালো বাজেট নির্ধারণ করা।'

তৌকীর আহমেদ বলেন, 'নাটকের গল্প অনুযায়ী বাজেট দিতে হবে। গল্পের দৃশ্যায়ন যদি থাকে সুন্দরবনে, বান্দরবানে; আবার শুটিং স্পট যদি হয় উত্তরা; এ দুই নাটকের বাজেট নিশ্চয় এক হবে না। যোগ্য লোক দিয়ে কাজ করালে নিশ্চয় তার জন্য খরচ বেশি হবে। চ্যানেল ও প্রযোজক সবাইকেই এদিকে খেয়াল রাখা উচিত।' নাটক বাঁচাতে চাই ভালো বাজেট। এ নিয়ে কী ভাবছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ? বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান তারেখ আখন্দ বলেন, আমরা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাছাই করা, মানসম্মত নাটক প্রচার করে থাকি। যদিও বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে এ কথা ঠিক, ভালো বাজেট দিলেই ভালো নাটক হবে, এমন কোনো কথা নেই। স্বল্প বাজেটের কারণে নাটকের মান হারাচ্ছে, দর্শক নাটক দেখছে না- এ কথার সঙ্গে আমরা একমত নই। কারণ ৫ বছর আগে একটি একক নাটক যে টাকা দিয়ে কিনতাম, এখন তার চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে এক ঘণ্টার নাটক কিনছি। আর বাংলাভিশন নাটকের মান রক্ষার জন্য সদা প্রস্তুত। যে কারণে আমরা চেষ্টা করি বিশেষ দিবসের জন্য ভালো বাজেট দিয়ে ভালো নাটক নির্মাণের।'

আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, 'একটি ভালো নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা দরকার, তা-ই করার চেষ্টা করি সব সময়।' এ অবস্থার উত্তরণে উপায় কী জানতে চাইলে নির্মাতা মাতিয়া বানু শুকু বলেন, 'আমি শিল্পীদের পারিশ্রমিক নিয়ে কিছু বলব না। বিশ্বের সব দেশেই তারকা শিল্পীরা বেশি পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করেন। তবে আমাদের চ্যানেল কর্তৃপক্ষদের নাটকের দর্শক নিয়ে ভাবা উচিত। বিশ্বের অনেক দেশে লো বাজেটে চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়। তেমনই লো বাজেটে আমাদের নাটকও নির্মাণ হতে পারে। লো বাজেটের মধ্যে আমি নতুন শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে পারি। এতে নতুন শিল্পীরাও মিডিয়াতে আসতে পারে। যেখানে বড় বাজেটে কাজ করবেন তারকা অভিনয়শিল্পীরা, আর কম বাজেটে কাজ করবেন নতুন ও সম্ভাবনাময়ী অভিনয়শিল্পীরা।'

এ নিয়ে দেশের গুণী নির্মাতা-কলাকুশলীদের বক্তব্যে নানা বিষয় উঠে এসেছে। সবাই নাটকের বাজেটকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এ ছাড়া নাটকের মান বাড়াতে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। নাটকের বাজেট বৃদ্ধি পেলে নাটকের মান বাড়বে এবং ভবিষ্যতে টিভি নাটক ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে আশা সবার।