আমাদের দেশে হয় তার উল্টোটা: তারিন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

তারিন

তারিন। অভিনেত্রী, মডেল ও কণ্ঠশিল্পী। বাংলাভিশনে প্রচার হচ্ছে তার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক 'সোনালী দিন'। এ ছাড়াও তিনি এখন ব্যস্ত ঈদের কাজ নিয়ে। নাটক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

সমসাময়িক অন্যান্য নাটকের চেয়ে 'সোনালী দিন' কতটা ভিন্ন?

নাটকের গল্পের দিকে খেয়াল করলে বোঝা যায় সমসাময়িক অন্যান্য নাটকের চেয়ে এটি অনেকটাই ভিন্ন। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন উঠে এসেছে। সময়োপযোগী ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এর কাহিনী তৈরি হয়েছে। প্রতিটি পর্বে এক ধরনের গঠনমূলক বক্তব্য দর্শকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া নাটকের চরিত্রগুলোকে আরোপিতভাবে পর্দায় উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়নি। বরং গল্পের প্রয়োজনে অভিনীত চরিত্রগুলো নাটকটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। 

অনেকে বলেন, ধারাবাহিক নাটকে দীর্ঘদিন শুটিং করায় অভিনীত চরিত্রে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে... 

যেহেতু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধারাবাহিকের শুটিং হয়, তাই কিছুটা বাড়তি পরিশ্রম হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে মনোযোগ হারিয়ে ফেলার বিষয়টি নিয়ে আমি সম্পূর্ণ একমত নই। যদি একজন শিল্পী সত্যিকারভাবে শুটিং ইউনিটকে আপন ভাবতে পারেন তাহলে একঘেয়েমি লাগা কিংবা মনোযোগ হারিয়ে ফেলার সমস্যা থাকার কথা নয়। 

এ নাটকে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

নাটকের রচয়িতা মাতিয়া বানু শুকু সবসময়ই ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। নির্মাতা রোকেয়া প্রাচীও যত্ন নিয়ে নাটকটি নির্মাণ করেছেন। নাটকটি যাতে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয় সে জন্য দু'জনের চেষ্টার কমতি ছিল না। একটি পরিবারের গল্প নিয়ে এর কাহিনী এগিয়ে গেছে। এখানে আমি পরিবারের একজন কর্মজীবী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রটিতে অভিনয়ের অনেক সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা বেশ ভালোই ছিল। 

সম্প্রতি 'রুপা ভাবি' শিরোনামে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। এর গল্প কী নিয়ে?

বিবাহিত মানুষের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। প্রত্যেক দর্শক এই গল্পের সঙ্গে কোথাও না কোথাও নিজের জীবনের কিছুটা হলেও মিল খুঁজে পাবেন। এ ছাড়া লেখক মেজবাহ উদ্দিন সুমন সুন্দরভাবে গল্পটি উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। এ নাটকে আমার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। আবু হায়াত মাহামুদের পরিচালনায় গত পরশু এর দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে। আসছে ঈদে আরটিভিতে নাটকটি প্রচার হবে। 

আপনাদের সমসাময়িক অনেক অভিনেত্রীকে পর্দায় তেমন একটা নিয়মিত দেখা যায় না। এটি কি মূল্যায়নের অভাব নাকি অভিনয়ের প্রতি অপারগতা?

কে, কেন অভিনয় করছেন না এটি বলা মুশকিল। হতে পারে, সিনিয়র শিল্পীদের মূল্যায়ন কমে গেছে- এটা একটা কারণ। লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন পাশের দেশেও সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে নাটক, সিনেমা তৈরি হয়। সিনিয়র হলেও পরিচালকরা তাদের নিয়ে কাজ করেন। আমাদের দেশে হয় তার উল্টো। যথাযথ মূল্যায়ন না পেলে সিনিয়র শিল্পীরা অভিনয়ে আসতে চান না। গুনী শিল্পীকে অপ্রাসঙ্গিক কোনো চরিত্রে অভিনয় করানো যুক্তিসঙ্গত নয়। নির্মাতাদের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। 

কী কারণে ভালো গল্প ও চরিত্রনির্ভর নাটক হচ্ছে না বলে আপনি মনে করেন?

বর্তমানে এজেন্সিনির্ভর কাজ বেশি হচ্ছে। এজেন্সির যে ট্রেন্ড চালু হয়েছে তাতে শিল্পীরা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না। নাটকের বাজেট কমে যাচ্ছে। আগে মানুষ নাটক দেখে অনেক মজা পেত। পরিবারের মা-বাবার পাশাপাশি অনেক চরিত্র ছিল। একটা শক্ত পারিবারিক বন্ধন দেখানো হতো নাটকে। এখন নায়ক-নায়িকা ও তাদের মা-বাবার চরিত্রের বাইরে ভাবতে পারছেন না নির্মাতারা। বাজেট-স্বল্পতার কারণে এমনটি হচ্ছে। এখন নিরীক্ষাধর্মী কাজও কম হচ্ছে। এর একটা বড় কারণ, বাজেট-স্বল্পতার কারণে অনেক লেখক স্ট্ক্রিপ্ট দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। অনেক নির্মাতা, প্রযোজক দূরে সরে আছেন। তাদের কাজে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ বিষয়ে মিডিয়া সংশ্নিষ্ট মানুষকে একটু ভাবতে হবে। এর একটা সমাধান দরকার। 

নাটক নিয়ে অনেক কথা হলো। এবার আসা যাক অন্য প্রসঙ্গে। নতুন গান নিয়ে কী ভাবছেন?

গান করতে অবশ্যই চর্চার দরকার। সেই সময়টুকু দিতে পারছি না। অভিনয় ও ব্যক্তিগত কাজেই ব্যস্ততা রয়েছে। তবে গান থেকে কখনোই দূরে থাকতে পারব না। সময়-সুযোগ হলে আবারও ফিরব গানের ভুবনে। 

বিষয় : তারিন সাক্ষাৎকার বিনোদন