নীতিমালা না মানলে চলচ্চিত্র শিল্পীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

চলচ্চিত্র শিল্পের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনতে একযুগে কাজ করছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন। মূলত চলচ্চিত্রের মন্দা অবস্থা ও চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যয় কমিয়ে আনতে সোচ্চার হয়েছে সংগঠনগুলো। সব সংগঠগুলার নেতাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নেতা কামাল মো. কিবরিয়াকে আহ্বায়ক করেএকটি কমিটি করা হয়েছে। যে কমিটির নাম হচ্ছে ‘চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি’ ।

গঠিত ওই কমিটির পক্ষ থেকে  বিভিন্ন সংগঠনের ২০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে গত ৬ অক্টোবর চলচ্চিত্রের চলচ্চিত্র নির্মাণ–সংক্রান্ত তিন পাতার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন হয়। 

সোমবার এফডিসির জহির রায়হান প্রজেকশন হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় সেই নীতিমালাগুলো জানানো হয় গণমাধ্যমের কাছে। ওই সংসবাদ সম্মেলনেই জানানো হয়, নীতিমালাগুলো আগামী ১ নভেম্বর থেকে নীতিমালাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সে সময় বক্তরা জানান, সাধারণ শুটিংয়ের সময় অনিয়ম আর অপচয়ের জন্য সিনেমা নির্মাণের খরচ বেড়ে যায়। তাই শুটিংকালীন অপচয় কমিয়ে আতে পাররে  ৩০-৪০ লাখ টাকা খরচ বাঁচানো সম্ভব। এই খরচ কমিয়ে আতে পারলে সিনেমা নির্মাণের পর লোকসান হলেও প্রযোজকের আহামরি টাকা লোকসান হবে না। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক কামাল মো. কিবরিয়া, কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফসহ অনেক নেতৃবৃন্দ। 

এ সময  মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘ ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্লান্তিকার চলছে এখন। এ ক্লান্তিকাল থেকে উত্তরণের জন্যই আমরা এই নতুন নীতিমালা তৈরি করেছি। চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে এই নীতিমালার বাস্তবায়ন খুবই জরুরী।’।

একই সঙ্গে যারা এই নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করবেন কোন ক্ষয়-ক্ষতির বা লোকসানের দায়ভার তাকেই নিতে হবে বলেও জানান পরিচালক সমিতির এ নেতা। 

নীতিমালায়  সিনেমার প্রধান প্রধান তারকাদের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক কত হবে সে বিষয়ে কিছু উল্লখ করা হয়নি। কারণ কোন তারকা আকাশ সমান পরিশ্রমিক দাবী করছেন আবার কেউ তার যোগ্যতার চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক নিয়ে নিচ্ছেন। এটাও তো সিনেমা নির্মাণে ব্যায় বাড়ানোর একটা প্রক্রিয়া? প্রশ্ন করলে পরিচালক সমিতির নেতা গুলজার বলেন, শিল্পীদের পরিশ্রমিক নির্ধারণ করে দেয়া সুযোগ আমাদের মাঝে কম। কারণ অনেক শিল্পী সম্পর্কের খাতিরে প্রযোজকের কাছ থেকে পারিশ্রমিক কমবেশি পেয়ে থাকেন।

তবে বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থানুযায়ী দেশের শীর্ষ নায়কের পারিশ্রমিকও ১০ লাখের বেশি হওয়া উচিত নয় বলে জানান গুলজার। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু  বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি কার্যকর ছিল না। আমরা চলচ্চিত্রকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। তাহলে আমাদের শুটিং–সংক্রান্ত সমস্যা আর অপচয়গুলো কমে আসবে। ছবির শুটিংয়ে বড় অঙ্কের লোকসান থেকে প্রযোজকেরা রেহাই পাবেন।’

চলচ্চিত্র নির্মাণ–সংক্রান্ত নীতিমালায় যা রয়েছে:

১. এক লাখ টাকার ওপরে যাঁদের পারিশ্রমিক, তাঁরা কোনো যাতায়াত ভাতা পাবেন না।

২. কলাকুশলীদের অবশ্যই প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রথম কিস্তিতে ২৫ ভাগ, পরে কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে বাকি ৭৫ ভাগ তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।

৩. সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুটিংয়ের সময়। মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি। কোনো শিল্পী বা কলাকুশলী যদি সময়মতো না আসেন, তাঁর জন্য সময়মতো শুটিং শুরু করা সম্ভব না হলে এই ক্ষতিপূরণ তাঁকেই বহন করতে হবে। কিন্তু শিল্পী আসার পরও যদি নির্দিষ্ট সময়ে ক্যামেরা চালু করা না হয়, তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ দেবেন পরিচালক।

৪. পোশাকের জন্য কোনো শিল্পীকে টাকা দেওয়া হবে না। গল্পের প্রয়োজনে তা প্রোডাকশন থেকে তৈরি করে দেওয়া হবে। শুটিং শেষে প্রযোজকের কাছে পোশাক ফেরত দিতে হবে। কোনো পোশাক শিল্পীর পছন্দ হলে সেই পোশাক তৈরি খরচ দিয়ে শিল্পী নিতে পারবেন।

৫. নায়ক, নায়িকা, ভিলেন (প্রধান চরিত্রে) একজন করে সহযোগী নিতে পারবেন। এর ব্যয়ভার প্রোডাকশন থেকে বহন করা হবে। অতিরিক্ত কাউকে প্রোডাকশন বহন করবে না।

৬. ছবির প্রচারণায় প্রধান শিল্পীকে ছবি মুক্তির আগে ৫ দিন সময় দিতে হবে।

৭. আউটডোরে অবস্থানের সময় সহকারী পরিচালক ও সহকারী চিত্রগ্রাহক যাতায়াতের অর্ধেক হাতখরচ বাবদ পাবেন।