‘আলফাকে অস্কার পাওয়ার মতো ছবি মনে করি না’

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

নাসির উদ্দীন ইউসুফ। বরেণ্য নির্দেশক। গত শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী 'সেলিম আল দীন উৎসব ও গ্রাম থিয়েটার সম্মেলন'-এর আজ শেষ দিন। এ আয়োজন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি-

উৎসবের সমাপনী আয়োজনে আজ কী কী থাকছে?

'বাংলা নাট্য-অভিনয় রীতি, কৌশল ও প্রয়োগ' শিরোনামে একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে। এটি পরিচালনা করবেন শিমুল ইউসূফ। সন্ধ্যায় বুনন থিয়েটার মঞ্চায়ন করবে 'সিক্রেট অব হিস্ট্রি' নাটকটি। প্রায় ছয়শ'র বেশি প্রতিনিধি সারাদেশ থেকে এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। আশা করছি এ পুরো আয়োজনটি সফল ও সার্থক হবে।

যে ভাবনা নিয়ে গ্রাম থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা কতটুকু সফল হয়েছে?

গ্রাম থিয়েটার একটি আদর্শিক সংগঠন। এটি একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আদর্শ। রাজনৈতিক আদর্শ হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানুষের সমঅধিকারের বাংলাদেশ। আর সাংস্কৃতিক আদর্শ হচ্ছে- ঔপনিবেশিক নাট্য ও শিল্পরীতি পরিহার করে ঐতিহ্যবাহী বাংলা এবং বাঙালির নাট্য ও শিল্পরীতিতে যা আছে, সেগুলোর সংশ্নেষে একটি আধুনিক শিল্প ও নাট্যরীতি তৈরি করা। যেটা শতভাগই বাঙালির পরিচয় বহন করে। একজন মানুষ দেখলেই বুঝতে পারে এটা বাংলার পদ্মা অথবা গঙ্গাপাড়ের একটি শিল্পকর্ম, একটি নাট্যকর্ম অথবা চলচ্চিত্র কর্ম। অর্থাৎ জাতীয় সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করার জন্য ঔপনিবেশিক সংস্কৃতির বিপরীতে একটি সংস্কৃতি তৈরি করা। স্বাধীন দেশে এটাই হওয়া উচিত। ১৯৮২ সালে ঢাকা থিয়েটারের নেতৃত্বে আমি ও সেলিম আল দীন মিলে সংগঠনটি তৈরি করেছিলাম। আমাদের সাড়ে তিনশ'রও বেশি সংগঠন রয়েছে সারাদেশে। তারা সফলভাবে বর্ণনাত্মক নাট্যরীতি, পাচালীরীতি অথবা পালাগানের রীতি অনুসরণ করে নাটক মঞ্চায়ন করে। আমরা পুরোপুরি সফল হয়েছি এটা বলব না। তবে নিয়োজিত আছি একটি আদর্শিক সংগ্রামে। যে সংগ্রাম ও লড়াই বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।

নাট্যচর্চায় সেলিম আল দীন এখনও কেন প্রাসঙ্গিক?

সেলিম আল দীনের সৃষ্টিকর্ম সমকালীন। রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা নাটকের বিষয়, ভাষা ও আঙ্গিকে সেলিম আল দীন সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব। সত্তর দশকের প্রথমার্ধে আবির্ভাবলগ্নেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলা নাটকের পরিচিত ও গতানুগতিক পথে হাঁটবেন না তিনি। তাই সূচনার সেলিম থেকে পরিণত সেলিম অনেক পরিবর্তিত, দশকে দশকে তিনি আবিস্কার করেছেন নাটকের নতুন নতুন পথ, কাঠামো ও চরিত্রসকল, প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার যাবতীয় অনুষঙ্গসমেত উপস্থিত হয়েছেন তার নাটকের পর নাটকে। মানুষ ও প্রকৃতি ছিল সেলিমের শিল্পের বিষয়। ঐতিহ্যবাহী নাট্য আঙ্গিকের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি ঔপনিবেশিক নাট্য ও শিল্পরীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন আপন শক্তি ও অহঙ্কারে। শুধু নাটক রচনা নয়! নিজস্ব শিল্পতত্ত্ব, ভাষারীতি নির্মাণ করে সেলিম নিজেকে করে তুললেন অননুকরণীয়।

ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, আপনার নির্মিত 'আলফা' ছবি এবার বাংলাদেশ থেকে অস্কারে জায়গা করে নিয়েছে। অস্কারের মঞ্চে ছবিটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আমি এটাকে অস্কার পাওয়ার মতো ছবি মনে করি না। তবে আলোচিত হওয়ার মতো ছবি। এর আঙ্গিক, বিষয় ভাবনার, চলচ্চিত্রের ভাষার জায়গা থেকে এটি একেবারেই নতুন ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। যেহেতু এক্সপেরিমেন্টটা হয়েছে, তাই যথেষ্ট আলোচনা বাংলাদেশে হয়েছে। বাইরের দেশেও দেখলাম বেশ আলোচনা চলছে। হলিউড রিপোর্টারে পত্রিকায় এটির ওপর একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছে। ইতোমধ্যে রাশিয়ার একজন বিখ্যাত সমালোচকও ছবিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। একটু লেখালেখি শুরু হয়েছে এর আঙ্গিক নিয়ে। এটাই আশার কথা।