‘জীবনে যখন যেটা করেছি, মনোযোগ দিয়েই করেছি’

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

আসাদুজ্জামান নূর

আসাদুজ্জামান নূর। বরেণ্য নাট্যজন। আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় উদ্বোধন মঞ্চায়ন হবে 'কালো জলের কাব্য'। এই নাটকের প্রধান চরিত্র 'ভাঙারি'র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। উইলিয়াম শেকসপিয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন পান্থ শাহরিয়ার। এই নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি-

দীর্ঘদিন পর নতুন নাটক নিয়ে মঞ্চে ফিরছেন। কেমন লাগছে?

ভালো লাগছে। আবার কিছুটা স্নায়ুচাপেও আছি। কারণ, মঞ্চে সর্বশেষ নতুন নাটকে অভিনয় করেছিলাম ২০০১ সালে, সারা যাকেরের নির্দেশনায় 'মুখোশ' নাটকে। এটি একটি বিদেশি নাটক থেকে রূপান্তর করেছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। গত ১৮ বছরে নাগরিকের বেশ কয়েকটি পুরোনো নাটকের শোতে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু নতুন নাটকে অভিনয় করা হয়নি।

'কালো জলের কাব্য' নাটকে আপনার চরিত্রটা কী?

উইলিয়াম শেকসপিয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস'-এর মূল চরিত্র শাইলক। এই চরিত্রেই আমি অভিনয় করেছি। যেহেতু নাটকটি মার্চেন্ট অব ভেনিস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছে। ফলে পুরোপুরি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নির্দেশক তুলে ধরেছেন। ফলে দর্শক প্রথমেই মার্চেন্ট অব ভেনিসের সঙ্গে নাটকটির যোগসূত্র খুঁজে পাবেন না। ধীরে ধীরে যখন লোভ বা প্রতিহিংসার জায়গাগুলো পাওয়া যাবে, তখন উপলব্ধি হবে।

১৮ বছর পর ‘কালো জলের কাব্য’ নাটকের মাধ্যমে আবারও মঞ্চে ফিরেছেন আসাদুজ্জামন নূর

নাটকটি নিয়ে আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল?

একটি নতুন নাটকে অভিনয়ের জন্য যে পরিমাণ প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল, এই নাটকের ক্ষেত্রে তা একটু কম হয়েছে। আরও কিছুদিন সময় পেলে ভালো হতো। বিশেষ করে আমি আমার চরিত্রটি নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। কারণ, আমরা সব মিলিয়ে এক মাসের মতো নাটকটির মহড়া করেছি। মাঝে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে টানা মহড়ায় অংশ নিয়েছি। ফলে শরীরের ওপরও বেশ ধকল গিয়েছে। আর মঞ্চ নাটকে অভিনয় তো একটা টিম ওয়ার্কের বিষয়। দলের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটানো যাবে, তত ভালো। দলের সঙ্গে নিজের ইন্টারেকশনটা ভালো হয়। চরিত্রটি গঠন করতে সুবিধা হয়। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করতে পারে। ফলে আরও সময় পেলে চরিত্রটি আরও আত্মস্থ করা যেত।

এই বয়সেও এমন চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হলেন...

বয়স বাড়ে, কিন্তু একরকম উদ্যম তো থাকেই। আর সেই উদ্যমের কারণেই কিন্তু এই নাটকে অভিনয় করতে রাজি হয়েছি। আমি চেষ্টা করেছি। এখন বাকিটা নির্ভর করছে দর্শকের ওপর।

এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে- আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কী?

জীবন নিয়ে কখনও পরিকল্পনা করিনি। একটা সময় ছাত্র রাজনীতি করতাম, এরপর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলাম। ফিরে এসে রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে চাকরির পাশাপাশি অভিনয় করলাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরিচয়, এরপর তিনি আমাকে আবারও রাজনীতিতে নিয়ে এলেন। এটা বলতে পারি, আমি যখন যেটা করেছি, মনোযোগ দিয়ে করেছি। ফলে বলা যেতে পারে, জীবন মানে সামনের দিকে এগিয়ে চলা।

জীবনে সাফল্যের জন্য কী প্রয়োজন?

সততা, পরিশ্রম আর লক্ষ্য। এই তিনটি জিনিস থাকলে মানুষ ঠিকই সফল হবে।

রাজনীতি, অভিনয় এবং ব্যবসা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনি সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। একজন মানুষের পক্ষে এতকিছু কী করে সম্ভব?

প্রতিটি কাজের জন্য যদি আলাদাভাবে সময় ভাগ করে নেওয়া যায়, তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমি যেখানেই থাকি আগের দিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠিক করে নিই পরের দিন কী কী করব। পরদিন সেটি অনুসরণ করার চেষ্টা করি। দেখা যায় আগের দিনের পরিকল্পনা মতো সব কাজ হয় না। কিন্তু বেশিরভাগ কাজই হয়। বাকিটা আবার পরের দিনের কাজের তালিকায় রাখি। এভাবেই প্রতিটি কাজের সমন্বয় করে নিই।