ছিলেন সাধারণ মানুষ। তারপর হলেন ভিলেন, এরপর নায়ক। অতঃপর একজন তাসকিন রহমান হয়ে ওঠা। তবে ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাসকিন রহমান। তার বয়স যখন ৯ বছর তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনের অভিনয় ও গান দুই বিভাগ থেকেই নতুন কুঁড়ি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এরপর নাটকেও কাজ করেছেন। কিন্তু তখন ক’জন চিনতেন তাকে! অচেনা মুখ থেকে দর্শকপ্রিয় হয়ে ওঠার নেপথ্যে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি বলে দাবী তারকার। এখন ঢাকাই ছবির অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা তিনি। হাতে রয়েছে ৮টি ছবি। এখন অভিনয় করছেন সৈকত নাসিরের ‘ক্যাসিনো’ ছবিতে। এই ছবির সেটেই কথায় হয় তার সঙ্গে। সমকাল অনলাইনকে জানান বর্তমান ব্যস্ততার খবর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- অনিন্দ্য মামুন

ক্যাসিনো ছবির শুটিং করছেন। কেমন চলছে শুটিং?

দারুন একটি গল্পের ছবি ক্যাসিনো। এখানে আমার চরিত্রটিও দূর্দান্ত। আমি নিরব ও বুবলী অভিনয় করছি এতে। এফডিসিতে ক্যাসিনোর বিশাল সেট বানানো হয়েছে। এই পর্যন্ত যতটুকু শুটিং করছি তাতে আমি সন্তুষ্ঠ। ছবিটা দারুন কিছু হবে বলে বিশ্বাস জন্মেছে। 

ঢাকাই ছবির এই মুহুর্তের ব্যস্ততম অভিনেতা আপনি। আর কী কী ছবিতে কাজ করছেন?

‘ক্যাসিনো’ ছাড়াও  এই মুহূর্তে মোট সাতটি ছবি আমার হাতে রয়েছে। এর মধ্যে এম রাহিমের ‘শান’, দীপঙ্কর দীপনের ‘ঢাকা ২০৪০’, অপারেশন সুন্দরবন’, সৌরভ কুন্ডু’র ‘গিরগিটি’, ফয়সাল আহমেদে’র ‘মিশন এক্সট্রিম’ ও সাইফ চন্দনের ‘ওস্তাদ’। এর মধ্যে শানের শুটিং ৭০ভাগ শেষ। মিশন এক্সট্রিম তো মুক্তির অপেক্ষায় আছে। বাকীগুলোর ডিসেম্বরেই শুটিং শুরু হবে। 

তাহলে তো বেশ ব্যস্ত শিডিউল আপনার। এই সব ছবিতে কী খল চরিত্রে দেখা যাবে আপনাকে?

খল না নায়ক চরিত্র আমার কাছে মূখ্য নয়। আমার কাছে অভিনয়টাই মুখ্য। তবে সবগুলো ছবিতে খল চরিত্র নয়। এর মধ্যে মূল চরিত্রেও আছি আমি। তবে একেকটা ছবির চরিত্র একেক রকম। যেমন শান ছবিতে আমার চরিত্রকে অ্যান্টি হিরো হলেও এটাকে হিরো বলা যায়। তবে এটা প্যারালাল চরিত্র। আর অপারেশন সুন্দরবনের চরিত্র এখনই রিভিল করা যাবেনা। আর ঢাকা ২০৪০তেও আমি দারুন একটি চরিত্রে আছি। না খলনায়ক না নায়ক।

যে আট ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ছবিগুলোতে বিশেষত্ব কী থাকছে?

সাতটা ছবিই সাত ধরনের। সাতটি গল্পের ছবি, সাতটি জোনের ছবি। একই টাইমে এতোগুলো ছবিতে সাইন করার একটাই কারণ, প্রথমত চরিত্র নিয়ে খেলার সুযোগ। যেটা আমি সবসময় চাই। এখানে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। এক কথায় বলতে গেলে ৮টা ছবিতে সাইন করার বড় রিজন হচ্ছে এই ৮টি ছবির সবগুলোতে ৮০ ভাগ চরিত্রে আমি অভিনয় নিয়ে খেলতে পারব। 

আপনি তো অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। এদিকে এখন ঢাকার ছবিতে  ব্যষ্ত হয়ে পড়ছেন। অস্ট্রেলিয়াতে কী ফিরে যাওয়া হচ্ছে না?

বাংলাদেশ তেমন কিছেই করতে পারিনি আমি। বেশ ক’বছর ধরে সিনেমা অভিনয় করলও এখনও ঢাকায় ওইভাবে স্থায়ী হতে পারিনি। অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় ১৮-১৯ বছর চাকরি করে ওখানেই নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি। হঠাৎ করে ওটা ছেড়ে আসতে পারব না। তাই আমাকে অষ্ট্রেলিয়াতে ফিরতেই হবে।

আপনি তো এর আগে বলেছিলেন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অষ্ট্রেলিয়ার চাকরি ছেড়ে এসেছেন। এটা কী সত্যি?

এখানে একটু কারেকশন আছে। আসলে সেখানে ফেডারেল গভর্ণমেন্টের তদন্ত বিভাগে ফুলটাইম কাজ  করতাম আমি। ফুলটাইম কাজ করলে এক মাসের বেশি কাজের বাইরে থাকা সম্ভব নয়। তারা এখন জানে আমি বাংলাদেশেও কাজ করছি ।তাই আমাকে এখন কাজটি চুক্তি ভিত্তিক দিয়ে দিয়েছে। আমি যখন ইচ্ছে সেখানে কাজে ফিরতে পারব এবং বাংলাদেশে এসেও কাজ করতে পারব। 

এই যে এতোগুলো ছবির শুটিংয়ের ব্যস্ততা। এই ব্যস্ততা রেখে আবার অস্ট্রেলিয়ায়ে যাচ্ছেন কবে?

মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আবার অস্ট্রেলিয়া যেতে হবে। 

তার মানে মার্চের আগে আপনার ৮টি ছবিরই শুটিং শেষ হচ্ছে?

ছবিগুলোর শিডিউল তো তেমন করেই দেয়া। আশা করি মার্চের আগেই আমার শুটিং শেষ হয়ে যাবে। তবে এর মধ্যে যদি নতুন ছবি আসে সেটার কথা  আলাদা। 

এইযে অস্ট্রেলিয়ার লোভনীয় কাজ ছেড়ে এখন ঢাকার ছবিতে ফুল টাইম অভিনয় করছেন। কেউ অনুৎসাহিত করেনি?

বাংলাদের ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিতে এখন ক্রান্তিকাল চলছে। আমরা ক্রান্তিকালে কাজ করে যাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে সিনেমায় কাজ করতে যখন আসি তখন অনুৎসাহিত করার লোকের অভাব ছিলো না।ইন্ডাষ্ট্রির ভেতরের মানুষরাও ‘কিছু হবে না’ বলে আমাকে হতাশ করেছেন।তবে আমি হতাশ হইনি। কাজ শুরু করেছি। এখন এর শেষ দেখে ছাড়ব।

মানে সিনেমার মানুষরাই আপনাকে কাজ করতে বারণ করেছিলো?

হুম। যদিও আমাকে সরাসরি ওইভাবে বলেনি। ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন এখানে কাজ করে কিছু হবেনা। সিনেমা ইন্ডাষ্ট্রি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।  আরও কত কথা! তবে আমি তাদের কথা গায়ে নেইনি। আমি আসলে কোন কাজের শেষ না দেখে হাল ছাড়ার পাত্র নই।

বলছেন সিনেমার অঙ্গনের মানুষরাই আপনাকে কাজ করতে অনুৎসাহিত করেছেন। তবুও আপনি আসছেন, নিয়মিতই কাজ করছেন। সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো বলে কী এখন মনে হয়?

সিদ্ধান্তটা অবশ্যই সঠিক ছিলো। কারণ আমার মনে হয়েছে চলচ্চিত্র নিয়ে পুরোপুরি হাল ছেড়ে দেয়ার সময় এখনও আসেনি। কারণ, মানুষ এখনও বাংলা ছবি দেখতে চায়। বরং আমরা দর্শকদের ভালো ছবি দিতে পারছিনা। এই যে নতুন নতুন সিনেপ্লেক্স হচ্ছে। তার মানে  হচ্ছে  ভালো ভালো সিনেমাও তৈরি হবে।সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। আমি এর শেষটা দেখতে চাই। ব্যর্থ হয়ে নয় সাফল্য নিয়েই অস্ট্রেলিয়া ফিরে যেতে চাই।

ঢাকাই ছবিতে কাজ করতে অনেকেই অনুৎসাহিত করেছেন। তাহলে উৎসাহের জায়গাটা কোথায়?

আমার জেদটাই আমার উৎসাহ। শিল্পকে ভালোবেসে, সিনেমাকে ভালোবেসে হাল ছাড়িনি। কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস যারা শিল্পকে ভালোবাসেন তারা এতো দ্রুত হাল ছাড়ার পাত্র নন। আমিও তাই ছাড়িনি। অস্ট্রেলিয়াতে কিন্তু আমার সব আছে। তবে এখানে কাজ করতে আসলাম, দু একটি কাজ করে সফলতা না পেয়েই চলে গেলাম এটা আমার জন্য ব্যর্থতা হয়ে যাবে। তবে এই সময়টাকে আমি আমাদের চলচ্চিত্রের রেভ্যুলেশন পিরিয়ড মনে করে কাজ করেছি। এই টাইমের সঙ্গে থাকতে পারা মানেই ইতিহাসের সঙ্গে থাকা বলে মনে করি।। আমাদের চলচ্চিত্র কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর সময়ে আছে। 

এই ঘুরে দাড়ানোটা কেমন?

এখন সিনেপ্লেক্স নির্মাণ হচ্ছে। বড় বড় বাজেটের ভালোভালো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। আমরা সবাই একসঙ্গে সবাই নেমায় কন্টিভিউশন করছি। ঘুরে দাঁড়াবেই। দাঁড়াচ্ছেও।

বাংলাদেশে এসে বিয়েও করেছন। এখন সংসার করছেন। কেমন চলছে সংসার?

আলহামদুলিল্লাহ ভালো। বিয়ের পর সবকিছু ভালোভাবেই চলছে। 

বিয়ের পর পরিবার থেকে কেমন সমর্থন পাচ্ছেন?

আসলে আমি যখন যে কাজ করি সে কাজের মধ্যেই ডুবে থাকি। আমার স্ত্রী এটা খুব ভালোভাবেই বুঝে। আমি  যে কাজটি করছি যে কাজের প্রতি আমার ভালোবাসাটাকে ও সম্মান করে। যার কারণে কাজে কোন বাঁধা আসেনি। বেশ সমর্থন পাচ্ছি ওর। 

‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক আলোচিত আপনি। অনেকেই ভেবেছিলেন এই ছবির কেউ জাতীয় পুরস্কার পেলে সেটা আপনি পাবেন। পেলেন না। না পাওয়াতে কষ্ঠ লাগেনি?

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেলে হয়তো আরও উৎসাহকাজ করতো। তবে এখানে আমার বড় পাওয়া হচ্ছে এই মানুষ যে ভেবেছে এবং বলেছে, আমি পাওয়ার যোগ্য ছিলাম এটাই আমার কাছে বড় অ্যাওয়ার্ড। কেনো পাইনি এর কারণ খোঁজলে, এটা নিয়ে চিন্তা করলে মন খারাপ হবে। সেটা আমি চাইনা। বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ তো দূরের কথা মাথাতেই ওইভাবে ঢুকাইনি। তবে আমি আশাবদি আগামীতে কোন না কোন কাজের জন্য জাতীয় পুরস্কার পাবো।