সালতামামি ২০১৯

৫৭ ছবির বছরে ব্যবসা সফল ‘পাসওয়ার্ড’

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯   

অনিন্দ্য মামুন

‘পাসওয়ার্ড’ ছবির একটি গানের দৃশ্যে শাকিব খান

‘পাসওয়ার্ড’ ছবির একটি গানের দৃশ্যে শাকিব খান

ক'দিন পরই নতুন বছরের ক্যালেন্ডার উঠবে দেয়ালে। ২০১৯-এর পরিবর্তে ২০২০-এর ক্যালেন্ডার। অতীত হয়ে যাওয়া পুরো বছরের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব কষে নতুন বছরকে বরণ করে নেবেন সবাই। নতুন ছকে হাঁটবে ঢাকাই শোবিজও। বিগত বছরের ঢাকার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি কতটা সাফল্য আর ব্যর্থতার পথে হাঁটল তার একটা হিসাব-নিকাশ নিয়েই এই প্রতিবেদন।

হতাশার মেঘ সরছে না ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি থেকে। দিন যায় দিন আসে, বছর ঘুরে আসে নতুন বছরও। পুরো বছরেই নানা আশার বাণী শোনা যায়। কেটে যাবে হতাশা, আসবে সুদিন। কিন্তু সুদিন আসে না। তাই দৃঢ়তার সঙ্গে বলা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই যেন বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প। কিছুতেই বিপর্যয় থেকে কাটিয়ে উঠতে পারছে না দেশের সবচেয়ে বড় এই বিনোদন মাধ্যমটি। বিগত আট-নয় বছর ধরেই দেশীয় চলচ্চিত্র দর্শক-খরায় ভুগছে। সেটা এখন চলে এসেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা। এখন মুক্তিপ্রাপ্ত কোনো ছবিই যেন ব্যবসা সফল হতে পারছে না। ব্যবসা সফল তো দূরের কথা, মূলধনও তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সালতামামি টানলে চলতি ২০১৯ সালটা চলচ্চিত্রের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। বাণিজ্যিক ও বিকল্প ধারার ছবি মিলিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির তথ্যমতে, ৫৭টি ছবি মুক্তি পেয়েছে( ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি প্রতিক্ষিত মায়া: দ্য লস্ট মাদার ও কাঠবিড়ালী সহ)। এর মধ্যে খাতা-কলমের হিসাবে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবি দুটি। ভারত থেকে সাফটা চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত ছবির সংখ্যা ১০টি। তবে মুক্তিপ্রাপ্ত নিরেট দেশি ছবি দাঁড়ায় ৪৫টি। ১২ মাসে মুক্তি পেয়েছে মাত্র ৪৫টি দেশি ছবি। এই হলো ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির পুরো বছরের হিসাব। তাই বলা যায়, বছর যাচ্ছে আর ঢাকার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আরও নামছে নিচের দিকে। কমছে ছবি মুক্তির সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে হলের সংখ্যাও। ঢাকাই চলচ্চিত্রের নির্ভরযোগ্য কোনো বক্স অফিস নেই। মুক্তির পর তাই কোন সিনেমা কত ব্যবসা করল বা কত লস করল তার নিরেট হিসাব পাওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এর মধ্যেই বুকিং এজেন্ট, প্রযোজক সমিতি ও প্রদর্শক সমিতির একাধিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪৭টি ছবির মধ্যে মাত্র একটি ছবিই ব্যবসা করতে পেরেছে চলতি বছর। বাকি ছবিগুলো ব্যবসা তো নয়ই, মূলধনও ঘরে নিতে পারেনি বলে মন্তব্য তাদের।

এ বছর বাপ্পি চৌধুরী অভিনীত তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে

২০১৯ সালের একমাত্র ব্যবসাসফল ছবি হচ্ছে শাকিব খান-বুবলী অভিনীত 'পাসওয়ার্ড'। মালেক আফসারী পরিচালিত এ ছবিটি উজ্জ্বল করেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের মুখ। না হলে লোকসানের তালিকায় সব ছবিই চলে যেত এ বছর। যদিও বিগত দুই যুগ ধরে পাসওয়ার্ডের নায়ক শাকিব খানের কাঁধে ভর করেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িযে চলছে ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। তার ছবির বাইরে কোনো ছবিই ব্যবসা করতে পারছে না। তবে শাকিব খানের আরেক ছবি জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' ও সাকিব সনেটের 'নোলক' ব্যবসা দিতে পারেনি।

দেশীয় ছবি ব্যবসা করতে পারছে না। তাই ভারত থেকে সাফটা চুক্তির আওতায় 'বিসর্জন', 'ভোকাট্টা', 'কিডন্যাপ', 'শেষ থেকে শুরু', 'বিবাহ অভিযান', 'প্যানথার', 'বচ্চন', 'কণ্ঠ', 'জানবাজ' ও 'পাসওয়ার্ড (দেব) আমদানি করে এনেও রক্ষা মেলেনি। আমদানি করা সব ছবিই সুপার ফ্লপের তালিকায় আছে। পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনার দুই ছবি 'প্রেম আমার-২' ও 'তুই আমার রানী'ও বাংলাদেশে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বছরের আলোচিত ছবি ছিলো শুভ ও মিম জুটির ‘সাপলুডু’

তারকাদের পরিসংখ্যানে গেল বছর মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খান অভিনীত ছবি রয়েছে তিনটি। বাপ্পি চৌধুরী অভিনয় করেছেন তিনটি ছবিতে, ইমন অভিনয় করেছেন দুটি ও আরিফিন শুভ, জায়েদ খান, নিরব ও সিয়ামকে দেখা গেছে মাত্র একটি ছবিতে। পরিচিত নায়কদের মধ্যে এটাই হচ্ছে ছবির পরিসংখ্যান। আর নায়ক সাইমন সাদিকের কোনো ছবিই মুক্তি পায়নি। পরিচিত নায়িকাদের মধ্যে নুসরাত ইমরোজ তিশা তিনটি, মৌসুমী দুটি, বুবলী দুটি, জয়া আহসান দুটি, মাহিয়া মাহি দুটি, ববি দুটি, আইরিন দুটি এবং বিদ্যা সিনহা মিম, পূজা চেরি আর আলোচিত নায়িকা পরীমনি ফেসবুকে উত্তাপ ছড়িয়ে গেলেও হলে মুক্তি পেয়েছে একটি মাত্র ছবি।