হেমা মালিনী আবার

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০     আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২০      

সৌম্য প্রীতম

'সিমলা মির্চি' ছবিতে রাকুল প্রীত সিং, রাজকুমার রাও ও হেমা মালিনী

হেমা মালিনী; বলিউড সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি বলিউডের ড্রিম গার্ল। ১৯৭৭ সালে 'ড্রিম গার্ল' ছবির জন্য তিনি বলিউডে এই নামে জনপ্রিয় হন। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন হেমা মালিনী। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে 'তারকাসুলভ' চেহারা নেই বলে তামিল পরিচালক সিভি শ্রীধরের সিনেমা থেকে বাদ পড়েছিলেন হেমা। পরে সেই চরিত্রে অভিনয় করেন জয়ললিতা। ১৯৬৫ সালে 'পাণ্ডব বনবাসাম' ছবির একটি ছোট্ট চরিত্রের মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন হেমা। ১৯৬৮ সালে 'স্বপ্ন কা সওদাগর' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা চরিত্রে রুপালি পর্দায় অভিষিক্ত হন।

তামিল ছবি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও বলিউডে 'শোলে', 'সীতা ঔর গীতা', 'মিরা', 'কিনারা', 'সন্ন্যাসী', 'মেহবুবা', 'ড্রিম গার্ল', 'প্রেমনগর', 'খুশবু'র মতো ছবি দিয়ে প্রমাণ করেন, তিনি 'স্টার ম্যাটেরিয়াল' কি-না। হেমার এই জীবনযাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। তিনি এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি পুরুষশাসিত বা নায়কশাসিত বলিউডে নিজের আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। নায়কের পাশাপাশি হেমা মালিনীও ছিলেন বক্স অফিসে তুরুপের তাস। তিলে তিলে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। সংসার সামলিয়েছেন। ভারতের রাজনীতিতেও হেমা নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নাচ, অভিনয়, সংসার কিংবা রাজনীতি, যখন যেখানে মন দিয়েছেন, সেখানেই সফল হয়েছেন চিরসবুজ এই তারকা অভিনেত্রী। গত বছর এ বরেণ্য অভিনেত্রী ৭১ বছরে পা দিয়েছেন। কিন্তু তার গ্ল্যামারে আঁচ পড়েনি একটুকুও। এবার তিনি প্রেমে পড়লেন এক তরুণ নায়কের! বাস্তবে নয়; সিনেমায়।

'সিমলা মির্চি' ছবিতে তরুণ নায়ক রাজকুমার রাওয়ের সঙ্গে প্রেম করবেন তিনি। ফলে এ ছবিতে আবার দর্শক দেখবেন তাদের সেই চিরপরিচিত লাস্যময়ী হেমা মালিনীকে। আদ্যোপান্ত ব্যতিক্রমী এই প্রেমকাহিনি নিয়ে নির্মিত 'সিমলা মির্চি' পরিচালনা করছেন রমেশ সিপ্পি। এর আগে যিনি 'শোলে', 'সীতা অউর গীতা'র মতো ছবি পরিচালনা করেছেন। তার হাত দিয়ে এমন মিষ্টি ত্রিকোণ প্রেমের গল্প বেরোবে, এমন কি কেউ ভেবেছিল? সম্প্রতি রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার 'সিমলা মির্চি'র ট্রেলার মুক্তির পর পরিচালক দেখিয়ে দিলেন, এমন ছবিতেও তার দক্ষতা রয়েছে। ট্রেলারে অভির গল্প দেখানো হয়েছে। আর পাঁচজনের মতো সেও প্রেমে পড়ে। কিন্তু তা বলতে পারে না।

বলতে গেলেই তোতলামি শুরু করে। এভাবে প্রচুর প্রেম শুরুর আগেই সমূলে উৎপাটিত হয়েছে। এমন এক যুবক একদিন নয়না নামে এক মেয়ের প্রেমে পড়ে। এবার অভি লক্ষ্যে অনড়। নয়নাকে 'থ্রি ম্যাজিক্যাল ওয়ার্ডস' শোনাতেই হবে। বলতেই হবে, সে নয়নাকে কতটা ভালোবাসে। নয়নার সঙ্গে অভির বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু প্রেমের বহিঃপ্রকাশ আর হয়ে ওঠে না। এমন পরিস্থিতিতে অভি ঠিক করে, নয়নাকে প্রেমপত্র লিখে সে মনের ভাব ব্যক্ত করবে। করেও তাই। প্রেমপত্র লিখে নয়নার বাড়ির পোস্টবক্সে ফেলে আসে সে। অভির সেই চিঠি পৌঁছে নয়নার মায়ের হাতে। অভির প্রেমপত্র পেয়ে তিনি প্রেমে পড়েন। বয়সের ফারাক বিস্তর। কিন্তু তাতে কী! প্রেম কি আর বয়স দেখে হয়? এদিকে মাকে প্রেমে পড়তে দেখে নয়নারও বুক থেকে পাথর নামে।

এতদিন পর সে মাকে হাসিখুশি দেখছে। এমন একটি সুযোগ সে হাত থেকে যেতে দিতে পারে? অভিকে গোটা ঘটনার কথা জানায় সে। বিষয়টি বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। বাকিটুকু না হয় পর্দায়ই দেখে নেবেন দর্শকরা।

বহুদিন পর এই ছবি দিয়ে রুপালি পর্দায় কামব্যাক করছেন হেমা মালিনী। ২০১১ সালে 'বুডঢা হোগা তেরা বাপ' ছবিতে তাকে দেখা গিয়েছিল। তবে নতুন এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন রাজকুমার রাও। এ অভিনেতা এরই মধ্যে বলিউডে নিজের আসন পোক্ত করেছেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে পকেটে পুরেছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বয়সে ছোট হলেও ড্রিম গার্লের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে গেছেন রাজকুমার। তবে ট্রেলার দেখে মনে হতে পারে, দক্ষিণী অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিংয়ের তেমন কোনো ভূমিকা নেই ছবিতে। রাজকুমার-হেমাকে নিয়েই সেজেছে চিত্রনাট্য। যদিও এই রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে আগামীকাল। কারণ এদিনই মুক্তি পাবে ছবিটি