বর্তমান সময়ের জনপ্র্রিয় কণ্ঠশিল্পী ঐশী। নিজস্ব গায়কিতে শ্রোতাদের মনে এরই মধ্যে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন তিনি। 'ঐশী এক্সপ্রেস টু' অ্যালবাম নিয়ে আবার আসছেন প্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। অ্যালবামটির মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ও করেছেন ঐশী। তার গান, অভিনয় নিয়ে প্রচ্ছদ গদ্য... 

পুরো নাম ফাতিমা তুজ জাহ্‌রা ঐশী। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে নোয়াখালীর মাইজদীতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাবা-মায়ের গানের প্রতি ভালোবাসার তীব্রতা গানের বীজ বুনে দেয় ঐশীর মনে। তার কথায়, 'বাবা-মা শিখিয়েছেন কীভাবে দরদের সঙ্গে গাইতে হয়। ছোট্টবেলাতেই ক্লাসিক্যাল তালিম নিই মোহাম্মদ শরীফ এবং পরে হাফিজউদ্দিন বাহারের কাছে নজরুলগীতি। আসলে গান আমার রক্তে, শিরায়-উপশিরায়। প্রচুর গান শুনি। সুযোগ পেলেই আপন মনে গাই। দেশি শিল্পীদের মধ্যে রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, শাহ্‌নাজ রহমতুল্লাহ, কনকচাঁপা, সামিনা চৌধুরীর গান ভালো লাগে। আর বিদেশিদের মধ্যে প্রিয় লতা মুঙ্গেশকর, শ্রেয়া ঘোষাল, টেলর সুইফট এবং অ্যাডেলের গান। তবে রুনা লায়লা আমার অনুপ্রেরণার নাম। তার অসাধারণ গায়কি আমাকে দর্শকের সামনে পারফর্ম করার শক্তি জোগায়। স্বপ্ন দেখি, তার মতো একজন শিল্পী হওয়ার।

লড়াইয়ের নানা গল্প...

তখনও বুঝতে শেখেননি ছোট্ট ঐশী। মায়ের হাত ধরে ভীরু পায়ে বিটিভিতে আসা নতুন কুঁড়িতে দলীয় সংগীতে অংশ নেওয়ার জন্য। ধীরে ধীরে সে কুঁড়িটি যেন ফুলে পরিণত হতে থাকে। ঐশী এক্সপ্রেস অ্যালবামের কাজে প্রায়ই আসতে হতো নোয়াখালী থেকে। রেকর্ডিং শেষে আবার নোয়াখালী ফিরে যাওয়া। সেই সময়ের প্রতিটি দিনই যেন একেকটি লড়াইয়ের গল্প। তবে কখনও ক্লান্তি কিংবা বিরক্তি কিছুই ছুঁয়ে যেত না তাকে। গানের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ভেতর থেকে শক্তি জোগাত স্বপ্নবাজ এই শিল্পীকে। তাই তো যাত্রার পুরো পথ ধরে গাইতে থাকতেন নিজ মনে।

দিল কি দয়া হয় না এবং অতঃপর...

পবন দাস বাউলের 'দিল কি দয়া হয় না' গানটি নতুন করে গেয়ে যেন বদলে গেল ঐশীর ভুবন। ঐশী নিজেও মানেন, এই গানটিই তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এটি ছিল তার প্রথম অ্যালবাম 'ঐশী এক্সপ্রেস'-এর। যদিও এরপর একে একে গেয়ে ফেলেছেন অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় মৌলিক গান। 'নিজামউদ্দিন আউলিয়া', 'তুমি চোখ মেলে তাকালে', 'মায়া', 'প্রেমে পড়েছি', 'দিনে দিনে', 'অচিন টান', 'মুঠো মুঠো ভালোবাসা', 'কাজল ভ্রমরা' কিংবা 'পিরিতের ফল'- সবগুলো গানেই ঐশী শ্রোতাদের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। দিন দিন এই তালিকা বড় হচ্ছে। আসলে যে কোনো শিল্পীর কাছেই যা আরাধ্য, তার অনেকটাই এর মধ্যে করে ফেলেছেন ঐশী। লোকগান কিংবা প্রেমের গান যে কোনো গানেই ঐশীর কণ্ঠে থাকে অন্যরকম দরদ ও মায়া। হয়তো এ কারণেই তার গান শ্রোতাদের কাছে এত প্রিয়।

কত করি মায়ারে...

স্টেজে উঠলে আগে যেমন 'দিল কি দয়া হয় না' কিংবা 'নিজামউদ্দিন আউলিয়া'র অনুরোধ পেতেন, এখন বেশি পান 'মায়া' কিংবা 'কত করি মায়ারে'র জন্য। আসলে ভক্ত-শ্রোতাদের মায়ায় পড়ে গেছি ভীষণ। তাদের জন্য আরও সুন্দর সুন্দর মৌলিক গান গাইতে চাই। আর সেই গানের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই আমরণ; এবং তার পরও। দর্শক-শ্রোতার ভালোবাসা আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাদের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ আমি।

প্লেব্যাক এবং অন্যান্য

একক কিংবা প্লেব্যাক- কোথায় নেই ঐশীর গান!

'অবতার' চলচ্চিত্রের 'রঙিলা বিবি', 'যদি আমি আর না থাকি' কিংবা 'মায়া দ্য লস্ট মাদার'-এর গানগুলো আছে দর্শক-শ্রোতার পছন্দের তালিকায়। এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন আরও গান। 'চিটাগাংইয়া পোলা নোয়াখাইল্যা মাইয়া' চলচ্চিত্রের গানের জন্য দেশের বাইরে পুরস্কৃত হয়েছেন ঐশী। এ রকম আরও অনেক পুরস্কার, সম্মাননায় ভরে উঠেছে তার ঘর।

যদিও গান তার ধ্যানজ্ঞান; তবুও মেডিকেল বিষয়ে পড়াশোনার কারণে ভীষণ চাপ নিতে হয় তাকে। পড়াশোনা এবং পারফরম্যান্স- দুটোই যেন সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন সদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি। জানলে অবাক হবেন, মেডিকেলের পুরোনো অরিজিনাল বই সংগ্রহ করতে পছন্দ করেন ঐশী। এ ছাড়া আছে ঘড়ি কিংবা পোশাকের প্রতি টান। আরও পছন্দ করেন ঘুরে বেড়াতে সবুজের মাঝে। কখনওবা হারিয়ে যেতে চান আকাশের নীলে। আর আনমনে গাইতে থাকেন নিজের প্রিয় গানগুলো। এই বসন্ত দিনে চোখ মেলে দেখতে চান প্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। দেশ থেকে দেশান্তরে ভক্ত-শ্রোতার প্রিয় হয়ে থাকতে চান বছরের পর বছর। মুঠো মুঠো ভালোবাসা ঐশীর জন্য।

বিষয় : কণ্ঠশিল্পী ঐশী ঐশী এক্সপ্রেস টু জনপ্র্রিয় কণ্ঠশিল্পী

মন্তব্য করুন