করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে বাসাতেই দিন কাটছে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের। তবে ঠোটকাটা স্বভাবের এ গায়কের কথার অস্ত্র থেমে নেই। ন্যায়-অন্যায় ও শিল্পীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে কথা বলতে বরাবরই সরব তিনি। সরব  আছেন করোনার এই সময়টিতেও। করোনা ভাইরাস আতঙ্কের এই সময়টাতে শিল্পীদের সঙ্গে যে মিউজিশিয়ানরা  বাজাতেন তাদের দিন কিভাবে যাচ্ছে। কেউ  কি তাদের খবর রাখছেন? প্রশ্ন রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তোলে ধরেছেন আসিফ। যা হুবহু তোলে ধরা হলো-

অত্যন্ত দু:খ ভারাক্রান্ত মনে লিখছি।আমার স্বজাতি কিছু শিল্পীদের দেখলাম এই দু:সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্থসাহায্য চাইছেন। বাংলাদেশে বিগত দুই দশকে আমি দেখেছি শুধুমাত্র তারকা শিল্পীরাই সরকারী অনুদান পেয়েছেন। সাধারন মিউজিশিয়ানদের কপালে জুটেছে ভিক্ষার চাল কাঁড়া আঁকাড়া।তারকা শিল্পীদের পাশে অন্য শিল্পীরাও অর্থসাহায্য নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। সেই শিল্পী সুস্থ্য হয়ে আবার ইনকাম শুরু করলেও সাহায্যের টাকা ফেরত দেননি। দিলে হয়তো একটা ফান্ড করা যেতো অন্যদের সাহায্যার্থে।

ক’দিন আগেও ফেসবুকে দেখেছি শিল্পীরা একের পর এক শো’তে এই প্লেন থেকে সেই প্লেন দৌড়াচ্ছেন। ডেইলি তিনটা চারটা শো, দম ফেলার টাইম নাই, গিগ চলছেই।গত কয়েকদিনের দূর্যোগে সেই হাওয়া উড়ে গেছে। মিউজিশিয়ানরা বিপদে আছেন সত্য। তবে যাদের পেছনে বাজিয়েছেন তাদের দায়িত্ব নেয়া উচিত এখন অন্তত লোন দিয়ে। কথায় কথায় সাহায্য প্রার্থনা করে সাধারন মানুষের কাছে নিজেদের ভিক্ষুক প্রমানের মানে কি? মানুষ এগুলা স্বাভাবিক ভাবে নেয়না, কারন জনগনের ট্যাক্সের টাকার একটা ভ্যালু আছে।দেশে আরো মানুষ আছে, তাদেরও সমস্যার অন্ত নেই।আরেকটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরে, এই সাহায্যপ্রার্থী শিল্পীর কি কোন পরিবার নেই!! অবশ্যই আছে, আসলে সাহায্য চাওয়া একটা রোগে পরিনত হয়েছে।মানুষের গালি খাওয়া স্বত্তেও সরকারী সাহায্যের টাকাটা অমৃত লাগে।

অনেকদিন চেষ্টা করেছি শিল্পীদের সংগঠন তৈরী করতে।জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করেছি মহান শিল্পীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টায়।আত্মকেন্দ্রিক সিনিয়রদের একাট্টা না করতে পেরে জুনিয়রদের নিয়েও চেষ্টা করেছিলাম, লাঙ্গল জোয়ালের কাহিনীই চলছে।একটু দুরত্বে গেলেই সিনিয়ররা ছোটদের বলে বেয়াদব, আর ছোটরা সিনিয়রদের দেয় গালাগাল। সামনাসামনি দেখা হলে শ্রদ্ধা আর স্নেহের ঠ্যালায় ষ্টার জলসার নাটকও ফেইল।আমার প্রশ্ন- সরকার যদি সাহায্য দেয় তাহলে কার কাছে দেবে? সেই সাহায্য কে ভাগাভাগি করে দেবে? ক্রাইটেরিয়া কি হবে? আদৌ কোন সংগঠন আছে কি আপনাদের?এগুলোর কোন উত্তর নেই জানি বরং ভাগের রুটি নিয়ে কামড়াকামড়ি শুরু হবে নতুন আঙ্গিকে।আমরা প্রতিষ্ঠিতরা ভিক্ষাবৃত্তিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি, ঐদিকে রানু মন্ডল শাড়ী গয়নার জন্য ডিজাইনার নিয়োগ দিয়েছে।আমার মনে হয় ঐক্যহীন গানের জগতে আমরা সবাই জিলাপী কিংবা জিলাপীর সন্তান।