আজকের শিল্পী

‘অনিশ্চিত সময় দিয়ে যাচ্ছি, কাছের মানুষদেরও ভয় লাগে’

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক

কনা। তারকা কণ্ঠশিল্পী। করোনাভাইরাসের বিপর্যয়ে আতঙ্কিত মানুষদের সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে...

নতুন গানের আয়োজন নেই। ব্যস্ততা নেই স্টেজ শো কিংবা টিভি আয়োজন নিয়ে। কেমন কাটছে দিনগুলো?

করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে পুরো বিশ্বের সবাই আতঙ্কে আছে। তাই গান বা অন্য কোনো কাজ করতে পারছি কিনা, তা নিয়ে মোটেও ভাবছি না। গান করতে না পারা নিয়ে যতটা না মন খারাপ, তার চেয়ে বেশি মন খারাপ প্রতিদিন পাওয়া মৃত্যুর খবরে। কোনো কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছি না। ঘরে বন্দি হয়ে আছি শুধু এই ভাইরাসের কবল থেকে নিজেকে এবং দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা ভেবে।

অনেকে বলেন গান মানুষকে শক্তি ও সাহস জোগায়। এই কথার সঙ্গে আপনি কতটা একমত?

বিভিন্ন দুর্যোগ, বৈরী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুগে যুগে গান মানুষের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে- এটা সত্যি। কিন্তু আমি ঠিক জানি না এই করোনাভাইরাসের মহামারিতে তা কতটা কাজে দেবে। যদিও অনেকে গানে, কথায় মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু কতদিন এটা সম্ভব হবে তা বলা কঠিন। আমরা এখন অনিশ্চিত এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আতঙ্ক আমাদের দিক থেকে চেপে বসেছে। কাছের মানুষদেরও আমরা ভয় পাচ্ছি। কখনও ভাবিনি এমন একটা সময়ের মুখোমুখি হবো আমরা। তারপরও আশায় বুক বেঁধে আছি, এই দুর্যোগ একদিন কেটে যাবে সেই বিশ্বাস নিয়ে।

সামনে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নতুন বছর উপলক্ষে প্রতিবছর কিছু না কিছু আয়োজন করেন। এবার তেমন কিছু করার সুযোগ আছে কি?

আমরা মনে হয় না বাংলা বর্ষবরণে কিছু করতে পারব। আমি এখন শুধু ভাবছি, আসহায় মানুষের পাশে থাকার জন্য কী করা যেতে পারে। শুধু মানুষকে সচেতন করলে হবে না, যারা খেটে খাওয়া মানুষ, দিন এসে দিন খায়, তাদের কথাও ভাবতে হবে। কাজকর্ম ছাড়া একেকটি দিন তাদের কীভাবে কাটছে, সেটা ভেবে দেখা জরুরি। তাই সাহায্যের হাত সবাইকে বাড়িয়ে দিতে হবে।

আগামী দিনগুলো নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

ঘরে বন্দি থেকে আগামীর স্বপ্নে বিভোর হওয়ার সময় নয় এটা। সবার আগে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। বেঁচে থাকলে অনেক সময় পাওয়া যাবে কিছু না কিছু করার। প্রাণের চেয়ে বড় কিছু তো হতে পারে না। দুর্যোগ কেটে যাক, তারপর ভবিষ্যতের কথা ভাবব।