দিলারা জামান। বরেণ্য অভিনেত্রী। বিটিভিতে আবারও শুরু হয়েছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'এইসব দিনরাত্রী'। এ ছাড়া আজ মা দিবস উপলক্ষে বৈশাখী টিভিতে প্রচার হবে তার অভিনীত নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-

বিটিভিতে আবার 'এইসব দিনরাত্রী' ধারাবাহিকটির প্রচার শুরু হয়েছে... দেখেছেন নিশ্চয়ই?

হ্যাঁ। দেখেছি। হুমায়ূন আহমেদের লেখা এটি চমৎকার একটি নাটক। ১৯৮৫ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়েছিল নাটকটি। পারিবারিক গল্পের এই নাটকে আমি একজন বদরাগী মায়ের চরিত্রে অভিনয়ে করেছি। নাটকটির যখন শুটিং চলছিল তখন আমি শাহীন স্কুলে চাকরি করতাম। একদিন ক্লাসের সামনে দিয়ে যাচ্ছি। এ সময় দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ূয়া এক শিশু আমাকে এসে বলল, মা্যডাম আপনি টুনিকে এত বকা দেন কেন? আমার খুব কষ্ট লাগে। ওর কষ্ট লাগে না। কথাটি শুনে আমি ছেলেটির চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। পরদিন শুটিংয়ে এসে হুমায়ূন আহমেদকে বললাম, আমি আর আপনার নাটক করব না। তিনি ভ্রু কুঁচকে বললেন কী হয়েছে? বললাম এমন নিষ্ঠুর চরিত্রে অভিনয় করতে আর ভালো লাগছে না। কারণ হিসেবে ওই ছোট ছেলেটির কথা বললাম। এরপর তিনি বুঝিয়ে শান্ত করলেন।

নাটকটিতে অভিনয়ের দিনগুলো কথা মনে পড়ে...

হ্যাঁ। অনেক স্মৃতি রয়েছে নাটক আর সহশিল্পীদের ঘিরে। নাটকটির প্রথম পর্ব আবারও যেদিন দেখলাম, সেদিনই সেই দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠল। আমি আর ডলি [ডলি জহুর] ধানমন্ডিতে থাকতাম। শুটিংয়ে ও আমাকে এসে নিয়ে যেত। আমরা ধানমন্ডি থেকে রিকশায় রামপুরা টেলিভিশন ভবনে যেতাম। পথে নানান আলাপ-আলোচনা হতো। এখন তো রিকশায় রামপুরায় টেলিভিশনে যাওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারি না।

এ নাটকে আপনার সহশিল্পীদের নিয়ে বলুন-

এই নাটকে আমার বড় ছেলের ভূমিকায় ছিলেন বুলবুল আহমেদ। পরে যখন কোনো একটি নাটকে আমার স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করতেন, তখন তাকে টিপ্পনী কাটতাম। তিনিও বেশ লজ্জা পেতেন। সেই সময় আমরা বেশ মজা করেই কাজটি করেছি। এই নাটকের অভিনয় করা বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী এরই মধ্যে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। যেমন বুলবুল আহমেদ, নায়ার সুলতানা লোপা, কাজী মেহফুজুল হক, আবুল খায়ের, খালেদ খানসহ অনেকের কথা খুব মনে পড়ছে। 

এবারের 'ওগো মা' নাটকটি নিয়ে বলুন? 

মা দিবসের এই নাটকটিতে অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছি টিপু আলমের লেখা গল্প পড়ে। প্রায় বছরখানেক আগে উত্তরার এক শুটিং বাড়িতে এর দৃশ্যধারণ হয়েছে। মা ও সন্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে উপজীব্য করে নাটকটি নির্মিত হয়েছে।

এবার অন্য প্রসঙ্গে জানতে চাইব। আপনার বয়স তো এখন ৭৭। জীবনের কোন সময় বেশি মিস করেন?

১২ ও ১৪ বছরের কিশোরী দিলারা জামানকে অনেক মনে পড়ে। সুযোগ পেলে ১২ বছরে ফিরতে চাই। কারণ সেই সময় ভীষণ রকম চঞ্চল ছিলাম। আমাকে সবাই বলত 'বাতাসির মা'। যশোরের বাড়িতে আমি উড়ে উড়ে বেড়াতাম। সারাক্ষণ হৈচৈ করা ছিল আমার স্বভাব। রেললাইনের পাশ দিয়ে দৌড়েছি অনেক। আমি গাছেও উঠতাম প্রায়ই।
মেয়েরা দেশের বাইরে, খারাপ লাগে না?
লাগে। আর সে কারণে মাঝে মধ্যে মেয়েদের ওখানে যাই। কিন্তু খুব বেশিদিন থাকতে ইচ্ছা করে না। নিজের দেশ ছেড়ে থাকতে পারি না। মায়া লাগে। এই দেশ, মাটি, এত ভালোবাসা ছেড়ে থাকা যায়?
এত মানুষের ভালোবাসা, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ এত এত পুরস্কার পেলেন। জীবন থেকে আর কী চাওয়ার আছে আপনার?
কিছু পাওয়ার জন্য কাজ করিনি কথনও। মনের আনন্দের জন্য কাজ করি। অভিনয় না করে থাকতে পারি না, তাই করি। আর এত মানুষ আপন করে নিয়েছে, আর কী চাওয়ার আছে জীবন থেকে?

বিষয় : দিলারা জামান বিনোদন

মন্তব্য করুন