জন্মাষ্টমী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিণী লক্ষত্র যোগে কৃষ্ণ মধুরায় কংসের কারাগারে মাতা দেবকীর অষ্টম সন্তান রূপে জন্মগ্রহণ করেন। তার এই জন্মদিনকে জন্মাষ্টমী বলা হয়। এ বছর মঙ্গলবার ১১ আগস্ট জন্মাষ্টমী পালিত হচ্ছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে জন্মাষ্টমীর গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ পেতে এদিন অনেকেই উপবাস রেখে পূজা-অর্চনা করেন। তাদের বিশ্বাস- সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে পূর্ণ অবতার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শ্রী বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হলেন কৃষ্ণ। যুগে যুগে পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন বেড়ে যায়, তখনই বিভিন্ন অবতার রূপে শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণকে শ্রদ্ধা জানিয়ে দুটি গান লিখেছেন প্রথিতযশা কবি, গীতিকার ও সুরকার মাহবুবুল এ খালিদ। যার শিরোনাম ‘কৃষ্ণ’ এবং ‘ওরে আমার মন’।

‘কৃষ্ণ’ গানটিতে সুর দিয়েছেন প্রয়াত সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। আর গেয়েছেন আরেক প্রয়াত নন্দিত কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। অন্যদিকে ‘ওরে আমার মন’ গানটিতে গীতিকার নিজেই সুরারোপ করেছেন। কণ্ঠ দিয়েছেন এ প্রজন্মের শিল্পী নূরী জান্নাত।

গান দুটি গীতিকারের নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘খালিদ সংগীত ডটকম’-এ প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘কৃষ্ণ’ গানটির একটি লিরিক্যাল ভিডিও ইউটিউবের ‘খালিদ সংগীত’ চ্যানেলে ছাড়া হয়েছে। ‘কৃষ্ণ’ গানটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হলেও ‘ওরে আমার মন’ গানটি সম্প্রতি খালিদ সংগীতে মুক্তি পায়।

যুগে যুগে মানুষ রূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন কৃষ্ণ। তিনি দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন সাধন করতে মানুষের জন্য তিনি স্বর্গ ছেড়ে মর্তে আসেন। কংসদের নিধন করে তিনি ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ধর্ম রক্ষা করেন। মহাঅবতার কৃষ্ণের বাণী ভগবত গীতায় বর্ণিত আছে। তিনি প্রেমিক, তিনি শাসক, তিনি মহাজ্ঞানী। ‘কৃষ্ণ’ গানটির মাধ্যমে এভাবেই শ্রীকৃষ্ণের গুণকীর্তন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘ওরে আমার মন’ গানে চিন্ময় ধাম ও পৃথিবীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে শত শত লক্ষী দেবী কৃষ্ণ নাম কীর্তণে রত। চিন্ময় ধামে থাকলেও ছায়া রূপে বিশ্বে বিচরণ করেন তিনি। গোলকধামে ঘুমের মাঝেও তিনি পূর্ণ চেতনে থাকেন এবং মানুষের প্রয়োজনে আবির্ভূত হন।

উল্লেখ্য, মাহবুবুল এ খালিদ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য গান রচনা করেন। তার লেখা গান ও কবিতা সব মানুষের জন্য। মানবতার জয়গানে সমৃদ্ধ তার গানগুলো শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।